ছয় মাস আটক থাকার পর থাইল্যান্ডের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। আজ রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তার মুক্তির খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

দীর্ঘ ১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনের পর গত আগস্টে থাইল্যান্ডে ফেরেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। দেশে ফিরেই বন্দি হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে দেশটির রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিশেষ ক্ষমতাবলে তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে এক বছর করেন।

থাই কারেকশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আটকের প্রথম রাতেই রক্তচাপ ও বুকে ব্যথা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখন থেকে হাসপাতালেই আটকাবস্থায় ছিলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। বন্দি থাকার ছয় মাসের মাথায় প্যারোলে মুক্তি পেলেন তিনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন থাকসিন। এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান থাকসিন। চলতি মাসে দেশটির ৯৩০ জন বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেয় সরকার। এই তালিকায় রয়েছে ৭৪ বছর বয়সী সাবেক এই থাই প্রধানমন্ত্রীর নাম।

সিএনএনের খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতায় থাকাকালে দেশটির গ্রামীণ ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। তবে তার সরকারের গৃহীত নীতিগুলো অভিজাত ধনী ও রক্ষণশীলদের জন্য সুবিধাজনক না হওয়াই কাল হয়েছে তার জন্য।

স্বেচ্ছা নির্বাসনের ১৫ বছর দেশে না থাকলেও বরাবরই দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। দেশের রাজনীতিতে তার বেশ ভালোরকমের প্রভাব ছিল বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যম। থাকসিনের কারামুক্তি দেশটির চলমান রাজনীতিতে  প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে সংবাদমাধ্যম বলছে, স্বেচ্ছা নির্বাসনর থেকে ফেরার জন্য দেশটির শক্তিশালী রক্ষণশীল ও রাজকীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকসিনের কোনো চুক্তি হয়ে থাকতে পারে। অন্তত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও কারাভোগের মেয়াদ কমানো এবং শেষপর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।