নিকোলাস মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ আদেশ দেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, ‘প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও দেশের সর্বাঙ্গীণ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য রদ্রিগেজকে এ অবস্থানে বসানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের জোরপূর্বক অনুপস্থিতির মুখে রাষ্ট্রের, সরকারি প্রশাসনের ধারাবাহিকতা এবং সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রযোজ্য আইন কাঠামো নির্ধারণ করতে আদালত বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করবে।’

আদালত আরো বলেছেন, ‘মাদুরো তার দায়িত্ব পালনে সাময়িকভাবে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন। রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা, কর্তব্য ও দায়িত্ব কার্যকর করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাই তিনি অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।’

ভেনিজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সাময়িক বা স্থায়ী অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ ২০১৮ সালে ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তার নিয়োগের কথা ঘোষণা করে মাদুরো বলেছিলেন, ‘তিনি একজন তরুণ নারী, সাহসী, অভিজ্ঞ। একজন শহীদের কন্যা, বিপ্লবী এবং হাজারো লড়াইয়ে পরীক্ষিত।’

কারাকাসের বাসিন্দা রদ্রিগেজের জন্ম ১৯৬৯ সালের ১৮ মে। তিনি বামপন্থী গেরিলা যোদ্ধা হোর্হে আন্তোনিও রদ্রিগেজের মেয়ে। আন্তোনিও রদ্রিগেজ ১৯৭০-এর দশকে বিপ্লবী দল ‘লিগা সোশিয়ালিস্তা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মেয়ে দেলসি ভেনিজুয়েলার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে গ্র্যাজুয়েট। গত এক দশকে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দ্রুত উত্থান হয়। তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ ভেনিজুয়েলার জাতীয় আইন পরিষদের প্রধান।

দেলসি রদ্রিগেজ ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ভেনিজুয়েলা সরকারে অর্থমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যা চায় রদ্রিগেজ যদি তা মেনে নেন, তবে তার দেশ ভেনিজুয়েলা দখল করবে না।