গাজায় ইসরায়েলি হামলার কেন্দ্রে রয়েছে
আল-শিফা হাসপাতাল। বোমাবর্ষণে অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় কমপক্ষে ১০০ মরদেহ সমাধিস্থ করতে পারছেন
না কর্মীরা। গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা ওয়াফা নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য জানান।
খবর আলজাজিরা।
তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতি হাসপাতাল
কর্মীদের স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে তুলেছে। হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ভেতরে জমে আছে চিকিৎসা
বর্জ্য।
এরই মধ্যে আল-শিফা হাসপাতাল নতুন রোগী
নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার উদ্বাস্তুদেরও দেখভাল করতে হচ্ছে
কর্মীদের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের কাছাকাছি
কাউকে দেখলেই গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েলি স্নাইপাররা। এ কারণে মরদেহ কবরস্থ করা যাচ্ছে
না।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
বলছে, আল-শিফায় দুই হাজারের বেশি মানুষ আটকা পড়েছে। এরই মধ্যে শিশু মারা যাওয়ার খবরও
এসেছে।
বিবিসি জানায়, হাসপাতালে ৬০০-৬৫০ রোগী
রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে ২০০-৫০০ স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রায় দেড় হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ
আশ্রয় নিয়েছেন। হাসপাতালে বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের অভাবে সবার জীবন ঝুঁকির মধ্যে
রয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার গাজার উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী
ইউসুফ আবু রিশ জানান, আল-শিফা হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া
হয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে দ্বিতল ভবনটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও বিপুলসংখ্যক রোগী আটকে
আছে। মৃত্যু হয়েছে দুই নবজাতকের।
এর আগে গত শুক্রবার হাসপাতালটিতে আইডিএফের
বিমান হামলায় নিহত হন অন্তত ১৩ জন। আল-শিফা ছাড়াও গাজার অন্য হাসপাতালগুলোয়ও ক্রমাগত
বিমান হামলা চালিয়েছে আইডিএফ।
হাসপাতালের সার্জন আহমেদ মোখল্লালতি
জানান, হাসপাতালের পরিস্থিতি ক্রমেই আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। একের পর এক বিমান হামলার
মধ্যে কেউই নিরাপদ বোধ করছে না।
দফায় দফায় বিমান হামলার পাশাপাশি আল-শিফা,
আল-কুদস, আল-রানতিসি ও ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের মতো গাজার সবক’টি বড় হাসপাতালের কাছে
অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আল-শিফা ও আল রানতিসি শিশু হাসপাতালকে চারদিক থেকে
ট্যাংক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশ
দিয়েছে তারা।
এদিকে ডব্লিউএইচও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি
এবং বেসামরিক ও স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছে আবারও।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল
গাজায় হামলা শুরু করে। ওই হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত ও ২০০ জনের বেশি জিম্মি
হন। এদিকে গত দুইদিনে হতাহতের কোনো হালনাগাদ তথ্য দেয়নি হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গাজায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার
হাজার ৫০০ এর বেশি শিশু।










