ইউক্রেন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপ ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’ বৃহস্পতিবার হুইশেলব্লোয়ারের অভিযোগে এমনটিই ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিতর্কিত ওই ফোনালাপ গোপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। খবর বিবিসি ও গার্ডিয়ান।
হুইশেলব্লোয়ারের বিস্ফোরক অভিযোগ, ইউক্রেনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভলোদিয়ামির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেকটা হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিস্তারিত কথোপকথন প্রকাশে ডেমোক্র্যাটদের জোর দাবি সত্ত্বেও হোয়াইট হাউজ আলোচনার ট্রান্সক্রিপ্ট লুকিয়ে রেখেছে।
তিনি আরো জানান, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যকার আলাপের অনুলিপি সাধারণত যে কম্পিউটার ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়, সেখানে না রেখে গোপনীয় তথ্য থাকে এমন পৃথক ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছে।
কে এই হুইশেলব্লোয়ার, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও বেশকিছু মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, তিনি একজন সিআইএ কর্মকর্তা এবং তিনি হোয়াইট হাউজে কাজ করেছেন। রহস্যময় সূত্রটির এক আইনজীবী সতর্ক করে বলেন, তার পরিচয় প্রকাশ তাকে বেশ ঝুঁকিতে ফেলে দেবে। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্স বলছে, ওই ব্যক্তি একজন সিআইএ কর্মকর্তা।
আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জনমত জরিপে জো বাইডেন অনেকদিন ধরেই এগিয়ে রয়েছেন। তাকে আটকাতেই ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলেনস্কিকে ওই চাপ দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
দরকষাকষির অংশ হিসেবে ফোনালাপের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চলতি মাসে ওই সহায়তার ছাড়পত্রে অনুমোদন দিয়েছে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিদেশী রাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে জানান হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এ পদক্ষেপকে ‘ধাপ্পাবাজি’ ও ‘আরেকটি উইচ হান্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েকদিন আগে দেশটিতে সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে নিলেও এটি বাইডেনবিষয়ক তদন্তে চাপ দিতে ব্যবহার করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা দেশের জন্য দুর্নাম নিয়ে এসেছে, এটির অনুমোদন দেয়া উচিত হবে না। এটি বন্ধের উপায় থাকা উচিত, হয়তো আদালতের মাধ্যমে আইনিভাবেই তা করা হবে।
চলতি সপ্তাহে দুই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। এতে ট্রাম্পকে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বারবার অনুরোধ করতে দেখা গেছে।
ট্রাম্প এ নিয়ে তার ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি ও মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের সঙ্গে সমন্বয় করতেও জেলেনস্কিকে বলেছিলেন বলে ওই মেমোতে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউক্রেনে সামরিক সহায়তাকে দরকষাকষিতে ব্যবহার করেছেন। কোনো মিত্র দেশে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় এ সহায়তা দেয়া হয়, যা হাউজ অব কংগ্রেসের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হয়।










