সুদানের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত রাজধানী খার্তুম পুনরুদ্ধারের পর বাস্তুচ্যুত আফাফ আল-তায়িবের মতো শত শত সুদানি ফিরে এসে দেখেন, তাদের বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর চারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ গৃহে ফিরে তিনি কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেন। খবর এপি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ মানুষ সুদানে ফিরেছেন। কিন্তু এখনো ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে, যাদের মধ্যে ৩২ লাখ সুদানি প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ফিরে আসা বাসিন্দারা দেখতে পাচ্ছেন, তাদের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, এলাকার পর এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে। খার্তুম এ যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল ছিল, যেখানে পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবাও আর নেই। খার্তুম এইড কিচেন নামের একটি সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা মোহনাদ এলবালাল জানান, শহরের বিদ্যুতের সাবস্টেশনগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং তার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। হাসপাতালের বিছানা ও অন্যান্য সামগ্রীও লুট করা হয়েছে।

খার্তুম প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আলতায়িব সাদ বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ সত্ত্বেও প্রদেশটিকে পুনর্গঠন করতে তারা গুরুতর পদক্ষেপ নিয়েছেন। পুনর্গঠনের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ হতে চলেছে। এ কাজের মধ্যে মৃতদেহ অপসারণ, বিস্ফোরক ধ্বংস করা ও রাস্তা পরিষ্কার করে এলাকাগুলোকে রোগমুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত। দ্রুতই খার্তুমের বাহরি ও ইস্ট নাইলসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।

তবে বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি এখনো কঠিন। আফাফ আল-তায়িব জানান, তাদের এলাকায় কোনো ধরনের মৌলিক সেবা নেই। বিদ্যুতের জন্য তাদের সৌর প্যানেল ও পানির জন্য বেশ সীমিত উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পাঁচবার বাস্তুচ্যুত হওয়া তার প্রতিবেশী নাসার আল-আসাদও ফিরে এসেছেন। কিন্তু তিনিও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুদানের রাজধানী খার্তুমের পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো খার্তুমের পুনর্গঠনে কাজ করার জন্য কোনো একক ও নির্ভরযোগ্য সরকারি অংশীদার খুঁজে পেতেও সমস্যার মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ওইসব এলাকায় সেবার অভাব ও সামরিকীকরণের কারণে অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে চুরি, জাতিগত বিভাজন ও অবৈধভাবে ঘর দখলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।