পাকিস্তান ও ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক পাহাড়ি ধসের কারণে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৪০০ জন মারা গেছেন। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ, উদ্ধারকর্মীরা মাটির নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছেন। খবর ডয়চে ভেলে।

গত শুক্রবার ও শনিবারের বর্ষণ ও ধসের পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পাহাড়ি প্রদেশে ৩২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আরো ১১ জন নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে গিলগিট-বালতিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ৯ জন মারা গেছে। বেশির ভাগ নিহত হয়েছেন আকস্মিক বন্যা বা ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়ে।

দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী এখনো মাটিতে আটকে থাকা মৃতদেহ ও জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। তবে অতিরিক্ত বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে অসুবিধা তৈরি হচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার এক কর্মকর্তা জানান, ভারী যন্ত্রপাতি বা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রদেশটির বেশ কয়েকটি জেলাকে দুর্যোগ-পীড়িত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।

9e17b524-7153-4a37-91b2-f33ebcaa73bd

উদ্ধারকারীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জনরা আটকা পড়ায় কিছু জীবিত মানুষ নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে রাজি হচ্ছেন না। ছবি: ডয়চে ভেলে

এদিকে, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার শুক্রবার দুর্ঘটনায় পড়ে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজাউরের বৃষ্টিপীড়িত এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেয়ার সময় এমআই-১৭ হেলিকপ্টারটি খারাপ আবহাওয়ার কারণে পাণ্ডিয়ালি এলাকায় পড়ে যায়। এতে দুই পাইলটসহ পাঁচজন নিহত হন।

অন্যদিকে, ভারতের কাশ্মীরের চাশোটি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৮০ জন। চাশোটিতে মাচাইল মন্দিরে তীর্থযাত্রার কারণে ভিড় বেশি ছিল। এতে দুর্যোগ আরো ভয়াবহ হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রায় ২০০ জনকে বন্যা ভেসে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, প্রকৃতি তাদের পরীক্ষা করছে।তাই সাম্প্রতিক সময়ে তাদের এত ভূমিধস, ক্লাউডবার্স্ট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় ও উত্তর পাকিস্তানের ছোট এলাকায় ঘন বর্ষণ বা ক্লাউডবার্স্ট দিনে দিনে বাড়ছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে, যা ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও ভূমিধস ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি বাড়ায়। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করা হচ্ছে।