জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ইউরোপের তাপমাত্রা।  বৃদ্ধি পাওয়া এ তাপমাত্রা মানব দেহের সহ্য ক্ষমতার ঊর্ধ্বে বলে দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

ইউরোপের জলবায়ু সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে কোপার্নিকাস এবং  ডব্লিউএমও গত বছরের চরম অবস্থার কথা উল্লেখ করেছে। ইউরোপে গত বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ ইউরোপের ৪১ শতাংশ অঞ্চল জুড়ে চরম তাপ প্রবাহ বিদ্যমান ছিল। এত বিশাল অংশ জুড়ে চরম তাপমাত্রার এ ঘটনা মহাদেশটির ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গিয়েছিল। 

অতিরিক্ত তাপ বাইরে কাজ করা কর্মী, বয়স্ক, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইতালির কিছু অংশে গত জুলাইয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি এবং গ্রিসের কিছু অংশ ২০২৩ সালে দশ দিন পর্যন্ত চরম তাপের সম্মুখীন হয়েছিল। এ সময় তাপমাত্রা ছিল ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি।  স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ বছরে ইউরোপে গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ সংস্থা গত মাসে ই্উরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারকে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বহিরাঙ্গন কর্মীদের চরম তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য ইইউকে নিয়ম প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ব্যতিক্রমী তাপের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন। এল নিনোর আবহাওয়া প্যাটার্নও চরম তাপ প্রবাহ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলে বিজ্ঞানীরা জানান। 

গত বছর স্লোভেনিয়ায় বন্যায় ১৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গ্রীস ইইউ-এর সবচেয়ে বড় দাবানলের শিকার হয়েছে। এ দাবানলের আয়তন ছিল ৯৬০ বর্গকিলোমিটার। আলপাইন হিমবাহগুলো ২০২২ ও ২০২৩ সালে তাদের অবশিষ্ট আয়তনের ১০ শতাংশ হারিয়েছে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো বলেন, ২০২৩  সালের কিছু ঘটনার তীব্রতা, শুরুর গতি, ব্যাপ্তি এবং সময়কালের কারণে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে বিস্মিত করে দিয়েছিল।