যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা দেশটির রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাসে একটি নতুন পাতা যুক্ত করল। সিএনএন ও টেলিগ্রাফের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এটি শুধু ইতিহাস নয়, ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করার মতো একটি ঘটনা। টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, সমাবেশে গুলির শব্দ হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের হিসাব পুরোপুরি ঘুরে গেল। অস্বীকার করার উপায় নেই, ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলে আসছেন, সাধারণ মানুষ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে মুখিয়ে আছে। অন্যদিকে ফেডারেল প্রসিকিউটর, বিচারপতি, নির্বাচন কমিশন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউজে তার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছেন।
এ অবস্থায় হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি হতে যাচ্ছে তার নির্বাচনী প্রচারণার ট্রাম্পকার্ড। তিনি যে দাবি করছিলেন, দায়িত্বশীলরা সবাই তার জয় ঠেকাতে বদ্ধপরিকর, এ প্রচারণায় বারুদ সংযোজন করল একটি বুলেট। সামনের দিনগুলোয় ট্রাম্প জোরালো দাবি করবেন, রাজনীতির মাঠে প্রমাণ হলো, বিরোধীদের তালিকায় এমন মানুষও আছে, যারা হোয়াইট হাউজে তার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে প্রয়োজনে তাকে হত্যা করতেও প্রস্তুত।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ওপর ১৯৮১ সালে হওয়া বন্দুক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই কিছু নির্বাচনী সুবিধা পাবেন। জনমত জরিপের বরাতে তারা বলছে, সম্প্রতি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওইসব মামলা তার জনপ্রিয়তায় খুব একটা প্রভাব ফেলেনি বললেই চলে। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ বলছে, ইতিহাসের শিক্ষা এই যে পেনিসিলভানিয়ার ঘটনা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। কেননা রোনাল্ড রিগ্যানকে হত্যাচেষ্টার পর দেখা যায়, তার জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় বেড়ে গিয়েছিল।
এদিকে আজ উইসকনসিনে ট্রাম্পের আরো একটি সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনিতেই কঠোর, তার ওপর সদ্য ঘটিত হামলার পর সম্ভবত তা আরো কঠোর করা হবে। এটাও স্বাভাবিক, ওই সমাবেশে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর বক্তব্যও বদলে যাবে। এরই মধ্যে ট্রাম্প সমর্থকরা বলতে শুরু করেছেন, ট্রাম্পের এই রক্ত যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্ধারের জন্য তার দেয়া মূল্য। ফলে স্পষ্টতই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি তার ভবিষ্যৎ প্রচারাভিযানে প্রাধান্য পাবে এবং সম্ভবত এটি তার প্রতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর সাবেক এ প্রেসিডেন্টের ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প কখনই যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচানোর লড়াই বন্ধ করবেন না।’ এদিকে চিকিৎসা গ্রহণের পর ট্রাম্প নিজেও এ ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা অবিশ্বাস্য।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়ায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুক হামলার শিকার হন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টরা এ হামলাকে হত্যাচেষ্টা বলে চিহ্নিত করেছেন। রয়টার্স ও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তার কানঘেঁষে গুলি করা হয়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ট্রাম্প। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এ ধরনের হামলা ক্ষমাও করতে পারি না।’










