যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মস্কোর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এ মন্তব্য করেন তিনি। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন শান্তিচুক্তি সই করতে হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করে নেয়া বিপুল পরিমাণ ভূমির ওপর থেকে দাবি ছেড়ে দিতে হতে পারে কিয়েভকে। খবর বিবিসি।
শুক্রবার আলোচনার ক্ষেত্রে ‘চমৎকার দিন’ গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই সমঝোতা হয়েছে।’ এরপর দেশ দুটিকে ‘শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বসে’ দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বান তার।
বিপরীতে মার্কিন দূত স্টিভের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছে ক্রেমলিন। এবারের বৈঠককে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিনের দূত ইউরি উষাকভও। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সরাসরি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। শুধু ইউক্রেন প্রসঙ্গেই নয়, আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতেও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “কাছাকাছি এনেছে’’ এ বৈঠক।’
তবে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, তাতে রাশিয়ার দখলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ ভূমি ইউক্রেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়তে হবে, এমন শর্ত আছে বলে একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বর্তমানে দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ মস্কোর দখলে।
ভূখণ্ড ছাড়ের বিষয়ে এতদিন অনড় থাকলেও সম্প্রতি সুর নরম হয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। শুক্রবার রাতে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি মানাতে রাশিয়ার ওপর ‘সত্যিকারের চাপ’ দরকার। একই দিন বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে’ রাজি হলেই কেবল মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ক্রাইমিয়া পুনর্দখলে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই বলেও জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
এদিকে গতকাল পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যের ফাঁকে রোমে একান্ত বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। হোয়াইট হাউজ এ বৈঠককে খুবই ফলপ্রসূ বললেও আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে জেলেনস্কিকে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প।










