যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া করার পর বুধবার জাহাজটি আটক করা হয়। এদিকে, পুরনো তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিতে সাবমেরিনসহ অন্যান্য নৌযান মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড জানায়, মেরিনেরা নামের এ ট্যাংকারটি (আগে যার নাম ছিল বেলা–১) মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করার অভিযোগে জব্দ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
মেরিনেরা যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ এড়িয়ে ভেনেজুয়েলায় যাতায়াত করছিল এবং আগে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যা ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহন করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের জব্দ ও তল্লাশির চেষ্টার পর থেকে আটক এড়িয়ে চলছিল ‘বেলা ১’ নামের ওই ট্যাংকারটি। ওই সময় ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেল রফতানি ও আমদানিতে অবরোধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে জাহাজটির পেছনে ধাওয়া বন্ধ করার অনুরোধ জানায় রাশিয়া। তবে এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে মন্তব্য জানতে চাওয়ায় হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ট্যাংকারটি ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম তদারককারী যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেছে, ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অংশীদারদের সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তবে পোস্টে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন কিংবা রুশ সাবমেরিনের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।










