নিউইয়র্ক সিটির নতুন নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। রাজনৈতিকভাবে একেবারে বিপরীত অবস্থানে থাকা এ দুই নেতা একে অন্যের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছেন। এ সময় জোহরান মামদানিকে নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে দেখা যায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বিবিসি ও রয়টার্স।

নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচিত মামদানি ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচারী শাসক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার উত্তরে ট্রাম্প মামদানিকে ‘চরম বামপন্থী পাগল ও কমিউনিস্ট’ আখ্যায়িত করেছিলেন। ট্রাম্পের কয়েকজন রাজনৈতিক সমর্থকও মামদানিকে শহরের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে শুক্রবার ওভাল অফিসে সাক্ষাতের সময় দুই নেতা একে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প মামদানির বারবার প্রশংসা করেন। তিনি মামদানিকে অত্যন্ত যুক্তিসংগত মানুষ এবং একজন চমৎকার মেয়র হবেন বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

মামদানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সমস্যার চেয়ে সমাধানে মনোযোগ দিয়েছেন।’

উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির বাসস্থানের খরচ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা অতীতের অভিযোগ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন। এক সাংবাদিক যখন জিজ্ঞেস করেন মামদানি এখনো ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ মনে করেন কিনা! ট্রাম্প হাসিমুখে বলেন, ‘ব্যাখ্যা দেয়ার চেয়ে হ্যাঁ বলে দেয়া সহজ।’ ট্রাম্প আরো বলেন, মামদানি ‘‍জিহাদি’ নন এবং তিনি ‘‍যুক্তিসংগত’ মানুষ।

দুই নেতা নিউইয়র্কের প্রতি তাদের ভালোবাসা নিয়েও একমত প্রকাশ করেছেন। উভয়েরই কুইন্স শহরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্প তার জন্মস্থান নিয়ে স্মৃতিচারণ করে হাস্যরসে বলেন, অন্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি হয়তো নিউইয়র্কের মেয়র হতে চাইতেন।

বৈঠকে বাসস্থান, অপরাধ ও অভিবাসনবিষয়ক নীতি সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে কথা হয়। মামদানি ভাড়া স্থগিত করার পরিকল্পনা এবং শহরের পরিষেবা উন্নয়নের কথা বলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প অপরাধ কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বন্ধুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য মামদানিকে রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করা কঠিন করতে পারে।

যদিও দুই নেতার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন, তবুও শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে উৎসাহ দেব,’ যা রাজনৈতিক ভিন্নমতের মধ্যে বিরল সদয় মনোভাবের প্রতীক।