ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখনো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের এখনো বিরোধিতা করেননি নেতানিয়াহু। যেহেতু তিনি ক্ষমতায় আছেন, ফলে স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা এখনো সম্ভব। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

গত শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেন জো বাইডেন। আলাপের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। গেল এক মাসের ভেতর দুই নেতার এটাই প্রথম ফোনালাপ।

এর মাত্র একদিন আগেই নেতানিয়াহু জানান, তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষে তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিংকেন মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। সফরে আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, তারা গাজা পুনর্গঠনে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

গাজায় হামাসের কাছে বন্দিদের মুক্তির উদ্যোগ নিয়েও টেলিফোনে কথা বলেছেন দুই নেতা। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আরো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালানো এবং গাজাবাসীর জন্য আরো মানবিক সহায়তা দেয়ার সুযোগের বিষয়েও তাদের কথা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই সময় তিনি বলেন, ‘গাজায় চলমান সংঘাত শেষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তার কোনো সমর্থন থাকবে না। আর এ কথা তিনি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছেন।’

একই সঙ্গে গাজায় ‘পুরোপুরি বিজয় অর্জন’ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

এ ঘটনার একদিন পর বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করতে নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের মেয়রদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জো বাইডেন। এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসরায়েলে নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অসম্ভব হবে কি? জবাবে বাইডেন বলেন, ‘না, এমনটা নয়।’

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার তিন মাস পেরিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। উপত্যকার ৮৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।