এলাহি কাণ্ড বলতে যা বোঝায় তাই ঘটেছে ভারতের
শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের বিয়েতে। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে গত সাত মাস আলোচনা-সমালোচনার
ঢেউ ছিল তুঙ্গে। সাত মাস লম্বা প্রি ওয়েডিংয়ের নানান আয়োজনে আম্বানি পরিবারের সমস্ত খুঁটিনাটি নিয়ে সরব ছিল গণমাধ্যম ও নেট দুনিয়া।
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ সাত মাসের প্রি-ওয়েডিং সেলিব্রেশনের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি। শুক্রবার ( ১২ জুলাই) হাজার হাজার অতিথির সামনে রাধিকা মার্চেন্ট ও অনন্ত আম্বানির বিয়ে সম্পন্ন হয়।
জমকালো সব প্রি ওয়েডিং অনুষ্ঠান শেষে বিয়ের
চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই ছিল আরো জাঁকজমক। অতিথি তালিকায়ও ছিল
চমকের বাহার! কিম এবং ক্লোয়ে কারদাশিয়ান, নিক জোনাস-প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং
প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বরিস জনসন থেকে শুরু করে বলিউড
বাদশাহ শাহরুখ খানসহ অন্যান্য নামীদামী তারকা, বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, শিল্পপতিরা
তারকা খচিত এই ইভেন্টে যোগ দিতে উড়ে এসেছিলেন মুম্বাইতে।
মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুরলা সেন্টার (বিকেসি) এর জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমকালো এই বিয়ের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের আগে আগে লাল গালিচা বিছিয়ে
বর-বধূকে আমন্ত্রণের উদ্দেশ্যে মুম্বাই পুলিশের মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়া হয় আশপাশের
রাস্তা।
আম্বানি পরিবারের ছোট ছেলের বিয়েতে অতিথিদের
পোশাকেও ছিল ঝলমলে আভা। বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাই
সেজেছেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী সাজে। বিয়েতে রাধিকা পরেছেন ডিজাইনার আবু জানি ও
সন্দীপ খোসলার নকশা করা পোশাক। আইভরি
রঙের এই লেহেঙ্গা তৈরি হয়েছে চমৎকার কাট-ওয়ার্ক জারদৌজি কাজে। গুজরাটি
ট্র্যাডিশনাল কনের আদলে সাদা-লালের ছোঁয়া আছে তাতে। তিনি মাথায় যে ওড়নাটি পরেছেন,
জানা গেছে সেটি ৫ মিটার দীর্ঘ। রাধিকা হাতভর্তি পরেছেন লাল-সাদারঙা চুড়ি। বামহাতে একটি বাজুও
পরেছেন তিনি। মাথায় টিকলি পরেছেন কানের দুল ও গলার চোকারের সঙ্গে মিল রেখে।
রাধিকার সাজ আরো অনন্য করে তুলেছে কপালের ছোট্ট একটি টিপ।
বিয়েতে কমলা শেরওয়ানি পরেছেন অনন্ত। বুকের
বাঁ-দিকে একটি হাতির ব্রোচ পরেছেন। মাথায় পরেছেন লাল পাগড়ি। বিয়ের থিমের সঙ্গে
মিলিয়ে গোলাপি পোশাকে সেজেছে আম্বানি পরিবার।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী ড্রেস কোডকে সম্মানিত করেছেন
আন্তর্জাতিক অতিথিরাও। অনেকেই আবার পরেছেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনারদের ডিজাইন করা
পোশাক।
ছোট ছেলের বিয়েতে খরচে কোনো কমতি রাখেননি নীতা
আম্বানি ও মুকেশ আম্বানি। লাইভমিন্ট, দ্য ইকোনমিক
টাইমস এবং আউটলুক বিজনেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাগদানের অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হওয়া
এলাহি এই বিয়ের চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত প্রায় সাত মাস দীর্ঘ এই বিয়েতে আম্বানি
পরিবারের ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ২৫০ কোটি টাকা শুধুমাত্র প্রি ওয়েডিং
অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল৷ এই বিয়ে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহের শিরোপা জিতে নিয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী হিন্দু বৈদিক রীতিনীতি মেনে শুক্রবার (১২ জুলাই) সম্পন্ন হয়েছে আম্বানি পরিবারের ছোট ছেলের বিয়ে। আর রবিবার ( ১৪ জুলাই) আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সী মুকেশ আম্বানি বর্তমানে বিশ্বের দশম ধনী ব্যক্তি, যার মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলার। ১৯৬৬ সালে মুকেশের বাবার প্রতিষ্ঠিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ একটি বিশাল অংশ পেট্রোলিয়াম এবং খুচরা থেকে শুরু করে আর্থিক পরিষেবা ও টেলিকম সেক্টর নিয়ে কাজ করে।অনন্ত আম্বানি মুকেশের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। ২৯ বছর বয়সী অনন্ত রিলায়েন্সের জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের বোর্ডে রয়েছেন।তবে অনন্ত-রাধিকার ব্যয়বহুল এই বিয়ে ঘিরে হইহুল্লোড় নেট দুনিয়ায় যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি করেছে, ঠিক ততটাই সমালোচনাও হয়েছে। যে দেশে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, যেখানে আয়বৈষম্য প্রকট, সেখানে এই বাড়বাড়ন্ত ও অঢেল সম্পদের প্রদর্শনীর সমালোচনা করেছেন অনেকেই।










