ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ করলে তাতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে বা হত্যা করা হলে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর সিএনএন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে টানা ষষ্ঠদিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্তত ৩০ জনকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা ইরান সরকারের পুরোনো অভ্যাস। যদি তারা আবারও এমনটা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যাবে। আমরা প্রস্তুত এবং সম্পূর্ণ লকড-লোডেড। বিষয়টির প্রতি আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে তেহরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এক্স-এ দেয়া পোস্টে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে, তা পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছড়াবে ও মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি সাধন করবে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে রেড লাইন উল্লেখ করে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি জানিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার জবাব হবে কঠোর ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদেশে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এটিকে গত তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের সূচনা হয় দোকানদারদের আন্দোলনের মাধ্যমে। সরকারের মুদ্রানীতির ব্যর্থতা, মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। এরপর বিক্ষোভ দ্রুতই বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।