কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে একটি ‘সাম্রাজ্য’ হিসেবে মনে করছে আর অন্য দেশগুলোকে সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখছে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার ‘বাস্তব হুমকির’ মুখে রয়েছে।
পেত্রোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে একটি ‘সাম্রাজ্য’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
তিনি আরো বলেন, এ ধারা যদি চলতে থাকে, তাহলে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণকারী যুক্তরাষ্ট্রের বদলে একসময় যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তার ভাষায়, বিশ্বের ওপর আধিপত্য কায়েম করার যে সাম্রাজ্যবাদী স্বপ্ন, তা বিচ্ছিন্ন থেকে কখনো বাস্তবায়িত হয় না।
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন পেত্রো। তার দাবি, আইসিই এজেন্টরা এখন ‘নাৎসি বাহিনীর মতো আচরণ করছে’। ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন দমনের নামে আইসিইর অভিযান ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার পেত্রোকে উদ্দেশ করে কটূক্তিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন। তবে বুধবার দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ হয়, যা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ট্রাম্প পরে বলেন, তিনি শিগগিরই পেত্রোর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করবেন।
কলম্বিয়ার এক কর্মকর্তা ওই সময় জানিয়েছিলেন, এ ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্কের ভাষায় ‘১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন’ এসেছে। তবে পরদিন বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পেত্রোর বক্তব্যে বোঝা যায়, বাস্তবে সম্পর্কের তেমন উন্নতি হয়নি। পেত্রোর মতে, আলোচনায় মাদক পাচার, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকা নীতি নিয়ে কথা হয়েছে।
ট্রাম্প কলম্বিয়া ও ভেনিজুয়েলাকে মাদক পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ বলে বারবার অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে জড়িত জাহাজে অন্তত ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ১১০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সমুদ্রপথের পর এখন স্থলপথেও অভিযান শুরু হবে। তিনি দাবি করেন, মেক্সিকো এখন কার্টেলদের নিয়ন্ত্রণে।










