দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনার জন্য মস্কোতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। আজ মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটনের আশা, বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই বৈঠকের পর ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাজি হবে ক্রেমলিন। খবর রয়টার্স।
গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া ২৮ দফার মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের খসড়া ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তাদের ধারণা, এই খসড়ায় ন্যাটোর বিষয়ে মস্কোর মূল দাবি, ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ওপর বিধিনিষেধের মতো বিষয় রয়েছে। এরপর ইউরোপীয় শক্তিগুলো যুদ্ধ বন্ধে পাল্টা প্রস্তাব দেয়। জেনেভার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন জানায়, তারা যুদ্ধ শেষ করতে একটি ‘হালনাগাদ ও সংশোধিত’ শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় পুতিনের কাছে শান্তি পরিকল্পনার এমন একটি সংস্করণ উপস্থাপন করবেন উইটকফ, যা কিয়েভের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এর মাধ্যমে পুতিনের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হবে।
নতুন করে সাজানো পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। গত মাসে ট্রাম্পের অনুমোদিত প্রস্তাবটি রাশিয়াপন্থি বলে সমালোচিত হয়। এতে কিয়েভকে মস্কোর কাছে তাদের কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে বাধ্য করা হতো—যার মধ্যে রয়েছে বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা।
পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার ছোট করার প্রস্তাবও ছিল এবং দেশটিকে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করার কথাও বলা হয়েছিল। এ প্রস্তাবে অপ্রস্তুত হয় কিয়েভ এবং এরপর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে পরে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, তারা যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চান।
গত সপ্তাহে পুতিন জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ” আলোচনা করতে প্রস্তুত। জেনেভায় ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত মাসের আলোচনায় সমঝোতা হয়, তা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির “ফ্রেমওয়ার্ক” হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তার দাবি, যদি সমঝোতা না হয়, রুশ সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে থাকায় তিনি বলপ্রয়োগে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবেন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সরকার বড় ধরনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারির অভিযোগে বেকায়দায় আছে। তার চিফ অব স্টাফ ও আলোচনায় এতদিনের অন্যতম কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়ারমাক গত সপ্তাহে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন।










