ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগের তুলনায় আরো বেশি পরিমাণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। খবর বিবিসি।
তারা প্রায়ই ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই ধরনের ড্রোন হামলা তেহরান ইসরায়েলের ওপর চালিয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা সারা দেশে তাপ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এক হাতে গণনা করতে পারে যেগুলো এখনো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
গত সপ্তাহে কিয়েভের কাছাকাছি একটি বড় স্থাপনায় আঘাত হানে রাশিয়া। হামলায় ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে তিনটি প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। একটি বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা ডিটিইকের ওপর বারবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। যে কারণে সেটি ২০ শতাংশের কম ক্ষমতায় কাজ করছে।
দেশটির বাড়ি ও শিল্প কারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য ইউক্রেনের সবকিছু ঠিকঠাক করা উচিত। দেশটি অন্যান্য দেশ থেকে সাহায্যের জন্য বারবার আবেদন করেছে। তবে রুশ হামলা এখনো থামেনি। খারকিভের ৫ নাম্বার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনিটিও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ২২ মার্চের হামলা ইচ্ছাকৃত এবং ধ্বংসাত্মক বলে দাবি করছে ইউক্রেন। পাঁচটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র একই জায়গায় আঘাত করে। এতে টারবাইন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার এবং প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পর, রাশিয়া আবারো শহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে।
প্ল্যান্টটির একজন কর্মী আইহর ওরলভস্কি বলেন, ‘এটি আমার কাছে নিজের বাড়ি ধ্বংস হওয়ার মতো। নিজের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখতে যেমন কষ্ট লাগে, এখন ঠিক এমনই কষ্ট লাগছে।’ সোভিয়েত আমল থেকে তিনি এখানে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘এটা খুবই কষ্টকর অনুভূতি। কিন্তু এটি আমাদের নতুন করে তৈরি করা লাগবে। কারণ এ শহরের লাখ লাখ মানুষ আমাদের ওপর নির্ভরশীল।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্ল্যান্টে ছয়টি হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর মার্চে হওয়া হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
প্ল্যান্টের একটি অংশ মেরামত করতে ইঞ্জিনিয়ারদের পুরো এক বছর লেগেছিল, তারপর এটি পুনরায় চালু হওয়ার দুই সপ্তাহ পর রাশিয়া ঠিক একই জায়গায় আঘাত করে।










