ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বুধবার (৭ মে) ভোররাতে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। পেহেলগামে হামলার জেরে এবার পাকিস্তান ভুখণ্ডে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ভারত। জবাবে গোলাবর্ষণ করেছে পাকিস্তান। এতে প্রাণ হারাচ্ছে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ। আহত হচ্ছে অনেকে। প্রাণে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ রেখার আশপাশের বেসামরিক নাগরিকরা। রাতের সেই ভয়াবহ হামলার বর্ণনা দিয়েছেন নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই পাশের মানুষ। খবর বিবিসি।

চলমান উত্তেজনায় হামলার আশঙ্কা তো ছিলই তবে তা এত তাড়াতাড়ি বা এভাবে হবে ভাবেননি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওহীদ। রোজকার মতো রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। হঠাৎই বিশাল বিস্ফোরণে ঘুম ভেঙে যায় তার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর আঘাত হানে আরো কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র। ধাতস্থ হয়ে দেখেন শিশুরা কাঁদছে, আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে নারী-পুরুষসহ সকলে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধে তারা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হামলায় অন্তত ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরো অনেকে। অন্যদিকে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ভারতের সীমান্তেও প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ বেসামরিক নাগরিক।

পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে নিহত হয়েছেন ভারতের পুঁছ জেলার বাসিন্দা রুবি কউর। হামলার বিষয়ে তার চাচা বুয়াভা সিং বিবিসিকে জানান, রাত পৌনে দুইটায় মর্টার শেল আঘাত হানে রুবি কউরের বাড়ির কাছে। সে সময় অসুস্থ স্বামীর জন্য চা বানাচ্ছিলেন রুবি। শেল সরাসরি তার মাথায় লাগে, এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

পুঁছের আরেকজন বাসিন্দা ড. জামরুদ মুগল বলেন, ‘সারা রাত জুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।’

আতঙ্কিত পাকিস্তান সীমান্ত পারের মানুষও। মুজাফফরাবাদের শেহনওয়াজ বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু হামলায় আমরা ভয় পেয়ে গেছি। প্রাণে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়াচ্ছি।’

কাশ্মীরের নগল সাহাদানের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস শাহ জানিয়েছেন, ভোররাতে এলাকায় চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ধ্বংস হয় একটি মসজিদ ও শিক্ষা কমপ্লেক্স। তিনি বলেন, ‘প্রথম তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পরপর আসে, তারপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চতুর্থটি।’

08e723a0-2b02-11f0-b266-09b83b28415a.jpg

দিল্লি দাবি করেছে, সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো সুনির্দিষ্ট, পরিমিত ও উত্তেজনা-নিরসনমূলক। কিন্তু মুজাফফরাবাদের স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। হামলায় এখানকার মসজিদ ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যেখানে আহত হয়েছেন ডজনখানেক নারী-পুরুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ওহীদ বলেন, ‘আমরা কোনো দিন ওই মসজিদে সন্দেহজনক কিছু দেখিনি। এটা তো আমাদের রাস্তাঘাটের সাধারণ মসজিদ, যেখানে আমরা দিনে পাঁচবার নামাজ পড়ি। কেন এটা লক্ষ্যবস্তু হলো, তা বোঝা মুশকিল।’

উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তুলেছে। যা সীমান্ত অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়েও আতঙ্কিত তারা।