মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের যৌথ অধিবেশনে চতুর্থবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুলাই) তিনি এ ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি একাধিক বিষয়বস্তু নিয়ে বললেও, গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধ পরবর্তী গাজা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। খবর রয়টার্স।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরবর্তী গাজাকে কট্টরপন্থী মুক্ত করা হবে বলে উল্লেখ করলেও সেটি কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি নেতানিয়াহু। এ সময় তিনি আরব বিশ্বে মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্ভাব্য মৈত্রীর বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের প্রতিপক্ষ বিশেষ করে ইরান ও এর সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে ইঙ্গিত করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবশ্যই একসঙ্গে থাকতে হবে। কারণ, আমরা যখন একসঙ্গে থাকি তখন সোজাসাপ্টা একটি বিষয়ই ঘটে- আমরা জিতি, তারা হারে।
এ সময় ওয়াশিংটনে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি ইরান বিক্ষোভকারীদের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি, ইরানই ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে মদদ দিচ্ছে এবং যা এই মুহূর্তে এই ক্যাপিটল হিলে অবস্থিত মার্কিন কংগ্রেস ভবনের বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভাষণে নেতানিয়াহু আরো দাবি করেন, গাজার দুর্ভিক্ষের জন্য হামাসই দায়ী এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করছে ইসরায়েল। এ সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক সহায়তা গাজার যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সীমান্ত যুদ্ধ বন্ধ করতে সহায়তা করছে।
এই ভাষণের একপর্যায়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা বারবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুদ্ধ পরবর্তী গাজায় কী হবে সেই পরিকল্পনা জানতে চান। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে দেয়া ভাষণে এ প্রশ্নের জবাবে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কেবল জানান, ইসরায়েল হামাসকে নির্মূল করতে চায়। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজা ও পশ্চিম তীর শাসনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে মেনে নিতেই অনিচ্ছুক তিনি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ সময় কয়েক ডজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তার ভাষণ বর্জন করে বাইরে চলে যান। বিশেষ করে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি রোধে ইসরায়েলের দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ না থাকার প্রতিবাদে তারা ওয়াক আউট করেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ভাষণ দিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল তিনবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।










