বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের আধিপত্য ঠেকাতে ও নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে পুনরায় শক্তিশালী করতে চীনা জাহাজ মালিক ও অপারেটরদের ওপর ‘বন্দর ফি’ আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর হবে। চীনা মালিকানাধীন বা চীনে নির্মিত জাহাজগুলোকে প্রতি টন কার্গোর জন্য ৫০ ডলার করে ফি দিতে হবে। কন্টেইনার জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি কন্টেইনারে ১২০ ডলার ও গাড়ি পরিবহনকারী জাহাজের জন্য গাড়ি প্রতি ১৫০ ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী তিন বছরে এই ফি ধাপে ধাপে বাড়বে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিমালা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলেছে। নতুন ফি তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনাকে আরো তীব্র করতে পারে। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীন ইতোমধ্যেই জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে মার্কিন কোম্পানি, শ্রমিক ও অর্থনীতি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বন্দর ফি বছরে সর্বোচ্চ পাঁচবার আরোপ করা যাবে। তবে ফাঁকা জাহাজ, মার্কিন অভ্যন্তরীণ জাহাজ চলাচল, গ্রেট লেকস ও ক্যারিবীয় দ্বীপমালার জাহাজগুলোকে এর আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই ফি মার্কিন ভোক্তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধির কারণ হবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ শিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু চীন নয়, অন্যান্য এশীয় দেশগুলোর জাহাজ চলাচলও প্রভাবিত হতে পারে। কারণ এসব দেশ অনেক বাণিজ্য সংস্থা এখন তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্বিন্যাস করার কথা ভাবছে। মার্কিন ভোক্তা সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এই ফি পরোক্ষভাবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের ক্ষতি করতে পারে।