গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের মুক্তি নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। এখন চুক্তি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নির্ভর করছে হামাসের ওপর। খবর এপি।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো অনেকদিন ধরেই গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করছে। রমজান শুরুর আগেই সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধান চাচ্ছিলেন তারা। এপির খবরে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তির এ প্রস্তাব ইসরায়েল মেনে নিয়েছে অথবা মেনে নেয়ার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বিষয়টি হামাসের হাতে।
এদিকে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি ইসরায়েল তাদের দেয়া শর্ত মেনে নেয়, তাহলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। গতকাল মিসরের রাজধানী কায়রোতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস-ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনা শুরুর আগে এমন তথ্য জানান নাম প্রকাশ না করা হামাসের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘যদি ইসরায়েল হামাসের শর্ত মেনে নেয়, যার মধ্যে রয়েছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গাজার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের ঘর-বাড়িতে ফিরতে দেয়া এবং ত্রাণ সহায়তার সরবরাহ বৃদ্ধি করা, তাহলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতির পথ খুলবে।’
অবরুদ্ধ গাজায় মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান থেকে মানবিক সহায়তাসামগ্রী ফেলার কয়েক ঘণ্টা পর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে বলা হয়েছে, শনিবার থেকে যে ত্রাণসামগ্রী দেয়া হয়েছে তাতে ৩৮ হাজার প্যাকেট খাবার রয়েছে, যা চলমান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।
খাবারের প্যাকেটগুলো ফেলার জন্য তিনটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাহায্যগুলো ঠিক কোথায় ফেলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৬৬টি বড় বড় কাঠের বাক্সে করে অন্তত ৩৮ হাজার খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য জড়ো হওয়া বেসামরিক নাগরিকের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয় বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার পর, শুক্রবার গাজা উপত্যকায় উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণ ও অন্যান্য সরবরাহ ফেলার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ঘোষণার পরদিনই খাবারের প্যাকেট ফেলল মার্কিন সামরিক বাহিনী ।
এদিকে গাজার রাফাহ, দেইর এল-বালাহ ও খান ইউনিসে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অনেকে।
রাফাহ শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় এ হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাফাহতে সর্বশেষ হামলার ফলে একটি চারতলা ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এরপর ওইদিন থেকেই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি। যুদ্ধে গাজা উপত্যকার প্রায় সব মানুষ বাড়ি-ঘর হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।










