ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মিয়ানমারে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে জান্তা সরকার ও প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট। আসিয়ানের চেয়ারম্যান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মত দেন তারা। খবর রয়টার্স।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে দেশ পরিচালনার জন্য স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএসি) গঠন করে। এর পর থেকেই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কবলে পড়েছে মিয়ানমার। মার্চের শেষের দিকে দেশটিতে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়। ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়ে মিয়ানমার।
আসিয়ান আঞ্চলিক ব্লকের চেয়ারম্যান আনোয়ার ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার থেকে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এবং বিদ্রোহীদের জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিবদমান দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুক্রবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের সম্মতির কথা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কতদিন বাড়ানো হবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
এসএসি ও এনইউজি উভয়ের সঙ্গেই প্রাথমিক আলোচনা খুবই সফল হয়েছে উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, যুদ্ধবিরতি থাকবে এবং কেউ কোনো অপ্রয়োজনীয় উসকানি দেবে না। না হলে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার পুরো মানবিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ২ এপ্রিল ২০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে জান্তা ও বিরোধীরা। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে দেশটিতে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক গোষ্ঠীর অভিযোগ, কিছু এলাকায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের জাতীয় ঐক্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে আনোয়ার বলেন, ‘মানবিক প্রয়োজনে আসিয়ান মিয়ানমারের জান্তা ও বিরোধীদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনীয় সহায়তাও পাঠানো হবে, তা সে এলাকা যার নিয়ন্ত্রণেই থাকুক না কেন।’
এ বিষয়ে এনইউজির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে আসিয়ান যে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তা আমরা বুঝি। তবে এর মাধ্যমে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা যেন বৈধতা পেয়ে না যায়, তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মিয়ানমার জান্তা সরকার আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনা মেনে না চলায় দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে বহুদিন ধরেই আলোচনা স্থগিত রেখেছে জোটটি। তবে দেশটির মানবিক বিপর্যয়ের পর জান্তার সঙ্গে আসিয়ান চেয়ারম্যানের সরাসরি যোগাযোগ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সমাধানের সূচনা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আলোচনায় মিয়ানমারের চারটি প্রাচীনতম জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলেও মনে করেন তারা। জান্তা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসিয়ানকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।










