পশ্চিমবঙ্গে আলু ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট আজ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) থেকে বাজারে আলুর জোগান স্বাভাবিক হবে বলে খবর দিয়েছে
হিন্দুস্তান টাইমস। এর আগে হরিপালে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কৃষি বিপণন মন্ত্রী
বেচারাম মান্নার বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উভয় পক্ষের সমঝোতা হয়েছে।
আলু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে জোগান বাড়িয়ে আলুর দাম কমাতে গিয়ে
লিখিত নির্দেশ ছাড়াই আলুবোঝাই ট্রাক রাজ্যের নানা সীমান্তে আটকে রাখা হয়। এর প্রতিবাদে
পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি ও পশ্চিমবঙ্গ হিমঘর অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের
জন্য কর্মবিরতি ডাকে। কর্মবিরতির জেরে গতকাল থেকে খুচরা বাজারে আলুর দাম বাড়তে থাকে।
পণ্যটির জোগানেও টান পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের বাজারগুলোতে কোথাও ৪০ টাকা কেজি,
কোথাও ৫০ টাকা কেজিতে দাম উঠে যায়। আর এতে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে এই অবস্থায় আলুর ক্রেতা-বিক্রেতারা তাকিয়ে ছিল আজকের বৈঠকের
দিকে। এই বৈঠকে জট কাটার পর নানা হিমঘর থেকে আলু বের করা হচ্ছে। আর বাজারে জোগান স্বাভাবিক
হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন নেতারা।
বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মঘট তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আলু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মঘট
তুলে নেয়া হয়েছে। আমরা রাজ্য সরকারের পাশে আছি। তবে রাজ্য থেকে যে আলু বাইরে যায়, তা
রফতানির বিষয়টিও যেন রাজ্য সরকার খেয়াল রাখে। মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। বিবেচনা
করে দেখবেনও বলেছেন। আমরা আমাদের দাবি লিখিত আকারে রাজ্য সরকারের কাছে জানাচ্ছি।’
এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার
বৈঠকে আলু নিয়ে যাতে সংকট না হয় সে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই আজ হুগলিতে বেচারাম মান্না
বৈঠকে বসেন। তার হস্তক্ষেপে উঠে গেল প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট।
ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা পতিতপাবন দে বলেন,
‘ব্যবসায়ীরা কর্মবিরতি তুলে নিয়েছেন। আমরা রাজ্য সরকারকে আলু দিয়ে সাহায্য করব। আমাদের
রাজ্যে ১১০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়। সবটা আমাদের রাজ্যে লাগে না। তাই ভিনরাজ্যে পাঠাতে
হয়। আলু একটা অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আলুর দাম বেশি থাকলে চাষীরা কিছু টাকা পায়।’
তবে মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, ‘রাজ্যের মানুষের স্বার্থে তারা
ধর্মঘট তুলে নিয়েছেন। তাদের কিছু সমস্যা আছে। সেটা জানিয়েছেন। হিমঘর থেকে ২৬ টাকা কেজি
দরে আলু দেয়া হবে। আলু ব্যবসায়ীরা যদি কথা রাখেন, তাহলে আমরা ৩০ টাকারও কম দামে আলু
খাওয়াতে পারব।’










