যুক্তরাষ্ট্রে আটক ভেনিজুয়েলার একটি গ্যাংয়ের সদস্যদের নির্বাসন দেয়া থেকে বিরত রাখতে একটি অস্থায়ী আদেশ জারি করেছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল সকালে আদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বন্দি শ্রেণীর কোনো সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ করা যাবে না। খবর সিএনবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৭৯৮ সালের এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্ট (বিদেশী শত্রু আইন) প্রয়োগ করে তাদের এল সালভাদরে পাঠাচ্ছিল। বিদেশী শত্রু আইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ চলাকালে শত্রু দেশের নাগরিকদের বিচার ছাড়াই আটক ও নির্বাসনের ক্ষমতা দেয়। আইনটি এর আগে মাত্র তিনবার ব্যবহার হয়েছে। সর্বশেষ ব্যবহার হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ৮ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬১ জন ভেনিজুয়েলান অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়। যার মধ্যে ১৩৭ জন এ আইনের আওতায় ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা।
তবে নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) দাবি করেছে, টেক্সাসে আটক ভেনিজুয়েলান বন্দিদের মধ্যে অনেকেই ইংরেজি না বুঝলেও ইংরেজিতে নির্বাসনের নোটিস পেয়েছেন। তবে তাদের জানানো হয়নি যে তারা আদালতে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
এর আগে গত ১৫ মার্চ নিম্ন আদালত সাময়িকভাবে এ নির্বাসন প্রক্রিয়া স্থগিত করে। পরে ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন প্রেসিডেন্ট এ আইন প্রয়োগ করতে পারেন, তবে বন্দিদের অবশ্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। অবশেষে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে এ নির্বাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আদেশ দেয়।
এ বিতাড়নের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো ভুল করে এল সালভাদরের নাগরিক কিলমার আব্রেগো গার্সিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা। যদিও সরকার তাকে এমএস-১৩ গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ মেলেনি।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে তাকে ফেরত আনার জন্য। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, আব্রেগো গার্সিয়া আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতে পারবেন না।










