শীতের শেষ দিকে মাটি ফুঁড়ে ওঠা ছোট ছোট পাতাগুলো ছিল নখের আগার মতো। এখন সেগুলো হাতের দৈর্ঘ্যের সবুজ বর্শার আকার নিয়েছে। পাতাগুলো জঙ্গলের ঢাল বেয়ে ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে নামতে ঢেকে দিচ্ছে মাটি ও অন্যান্য লতাগুল্মকে। অন্য সব উদ্ভিদকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বনের মধ্যে গড়ে তুলছে সবুজের গালিচা।
প্রাচীন লোককথায় আছে— এই গন্ধেই জেগে উঠত শীতনিদ্রায় থাকা বিশাল সব জানোয়ার। আগের যুগে যখন বনে প্রাণীদের জন্য খাবার ছিল না, তখন একমাত্র প্রাচুর্যময় খাদ্য ছিল এই উদ্ভিদ— বৈজ্ঞানিক নাম অ্যালিয়াম উরসিনাম, যার অর্থ দাঁড়ায় ভালুকের রসুন। এই গাছের আশপাশে থাকে মসলার মতো ঝাঁঝালো এক ধরনের গন্ধ। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গন্ধটা শুধু নাকে নয়, মনেও রেখাপাত করে।
এপ্রিল মাসে গাছগুলোয় সাদা সাদা ফুল দেখা যায়—প্রতিটি গাছে থাকে ছয় কাঁটা বিশিষ্ট একেকটি মুকুট। যেসব বনে আগে বেগুনি ব্লুবেল ছিল বনভূমির রঙ, সেখানে এখন রাজত্ব করছে বেয়ারের রসুন। পশ্চিমের অরণ্য এখন সাদা ফুলে ছাওয়া। বনাঞ্চল, নদীতীর ও ঝোপঝাড়ে সমানভাবে ফুটে থাকে বুনো এই উদ্ভিদ।
পরের গ্রীষ্মের শুরুতে ফুল ঝরে যাবে, গাছ বীজ ছড়িয়ে দেবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। তখনকার কোমল পাতাগুলো হয়ে উঠবে শক্ত, রুক্ষ, পুরোনো পেঁয়াজের মতো গন্ধ ছড়াবে বাতাসে। পৌরাণিক অদৃশ্য সেই ভালুকেরা আবার হারিয়ে যাবে সময়ের কুয়াশায়—তবে গাছটি থেকে যাবে, এক নতুন মৌসুমের অপেক্ষায়।










