যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। খবর বিবিসি।
নৌ অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী’ অবরোধ তুলে নেয়া হয়েছে এবং কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘সাধারণ এলাকায়’ অবস্থান করবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দেয়া ‘ইরান জাতির অধিকার রক্ষার’ আশ্বাসের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন।
যদিও এ বিষয়ে নিজের ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ রয়েছে বলে উল্লেখ করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মোজতবা খামেনি।
খামেনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশার কারণেই সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে’ চুক্তিটি করিয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভবিষ্যতে ‘সরাসরি আলোচনা’ হলেও, এর অর্থ এই নয় যে তারা ‘শত্রুর অবস্থান মেনে নিয়েছেন’।
এই প্রথম চুক্তির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, মার্চ মাসে দায়িত্ব নিলেও তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
খামেনির বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও, সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধসহ ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে মার্কিন-ইরান চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকার বাধ্যবাধকতা এবং দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন- যদিও এই তহবিলে অর্থ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওপর বাধ্যবাধকতা নেই।
চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে সমঝোতা স্মারকটি অনলাইনে স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়েছে।
অবশ্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পরবর্তী আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।










