ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের উত্তরকাশী জেলার ধারালি গ্রামে ভারি বৃষ্টির পর আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ খীরগঙ্গা নদী দিয়ে নেমে আসে প্রবল পাহাড়ি ঢল। এতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট। অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

ধারালি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট রয়েছে। বন্যার সময় অনেক পর্যটক সেখানে অবস্থান করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের কাদার ঢেউয়ে দোকান ও ঘরবাড়ি একের পর এক ভেসে যাচ্ছে।

স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পানির ঢল এত দ্রুত এসেছিল যে কেউ পালাতে পারেনি। আমাদের ধারণা, অনেকে আটকা পড়েছেন।

ধারালির কাছেই অবস্থিত কল্পকেদার মন্দির কাদায় ঢেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনী ও ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের দল দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তরকাশীর জেলা প্রশাসক প্রশান্ত আর্য বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুটোই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা হওয়ায় দ্রুত সেখানে অভিযান চালানো জরুরি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানান, ধারালিতে বন্যার খবর পেয়েই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি। তবে বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। ধামি আরো জানান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ চলছে।