যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হওয়ার পর জিম্বাবুয়েতে ম্যালারিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর সংক্রামক এ রোগে মৃতের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিগুলোর অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় দেশটির ম্যালারিয়া নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ১১৫টি ম্যালারিয়ার প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৮০ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ২১৮ শতাংশ। গত বছর এ সময়ে মৃত্যু ছিল ৪৫ জন, এবার তা দাঁড়িয়েছে ১৪৩ জনে। ২৬ জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৮ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৪।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালারিয়া প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য সহায়তা বন্ধ করে দেন। এতে আফ্রিকা ইউনিভার্সিটির জিম্বাবুয়ে এনটোমোলজিক্যাল সাপোর্ট প্রোগ্রাম ইন ম্যালেরিয়া (জেন্টো) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ম্যালারিয়া নিয়ন্ত্রণে গবেষণা ও মশা পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করত জেন্টো।

মশারি বিতরণেও ব্যাঘাত ঘটেছে। মে মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৬ লাখ ১৫ হাজার মশারি বিতরণ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান বন্ধ হওয়ায় ছয় লাখ মশারির ঘাটতি রয়ে গেছে।

জিম্বাবুয়ের ‘কমিউনিটি ওয়ার্কিং গ্রুপ অন হেলথ’-এর পরিচালক ইটাই রুসিকে বলেন, দুই দশকের অর্জন এখন হুমকির মুখে। গর্ভবতী নারীদের জন্য ওষুধ ও মশারি এবং রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে মৃত্যুহার আরো বাড়বে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের ১৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। আফ্রিকান ইউনিয়নের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালারিয়া নির্মূল করার লক্ষ্য রয়েছে জিম্বাবুয়ের। তা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা, মশারির ব্যবহার, ঘরে ঘরে ওষুধ স্প্রে ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করছে সরকার।

দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হেনরি মাডজোরেরা বলেন, ‘দেশে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দকৃত করের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই অনেকটা ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। শুধুমাত্র দাতাদের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।’

আফ্রিকা ইউনিভার্সিটির ম্যালেরিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সুংগানো মহারাকুরা বলেন, মানিকাল্যান্ড প্রদেশে ২০২১ সালে জেন্টো চালু হওয়ার পর ম্যালারিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৫ থেকে ২০২৪ সালে কমে ৮ হাজার ৩৫–এ দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর ফের বেড়ে তা ২৭ হাজার ২১২-এ পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারো খারাপ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।’