বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ফিলিস্তিনের গাজায় খাদ্য সরবরাহ স্থগিত করেছে। গাজায় সংস্থাটির খাদ্যবহনকারী গাড়িবহর বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার শিকার হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত মোটেও হালকাভাবে নেয়া হয়নি। কারণ তাদের কর্মীরা অত্যধিক ভিড়, গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের মুখোমুখি হচ্ছে। খবর বিবিসি।

এদিকে জাতিসংঘ গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষের সতর্কবাণী দিচ্ছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জনপদটি ক্ষুধা ও ব্যাধির দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অক্টোবরে স্থল অভিযান চালানোর সময় ১১ লাখ বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিককে উত্তর গাজা খালি করে দক্ষিণে যেতে বলে। গাজা শহরও এর অন্তর্ভুক্ত, যেটি যুদ্ধের আগে অঞ্চলটির সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ছিল।

অধিকাংশ অধিবাসীই ইসরায়েলের আদেশ অনুসরণ করে। কিন্তু কয়েক লাখ মানুষ নিজ বাসভূমিতেই থেকে যায় অথবা অঞ্চলটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরিবেষ্টিত হওয়ায় তারা বের হতে ব্যর্থ হয়।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ গত মাসে জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলে কমপক্ষে ৩ লাখ লোক তাদের জীবনধারণের জন্য খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করে। আবার উত্তর গাজায় খাদ্য সহায়তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অনাপত্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছিল।

এ সপ্তাহেও ডব্লিউএফপি খাদ্যবোঝাই ১০টি লরি পাঠায়, কিন্তু রোববার উত্তর গাজায় যাওয়ার পথে ওয়াদি গাজা চেকপয়েন্টে ক্ষুধার্ত মানুষের জটলার ‍মুখোমুখি হতে হয়। এরপর গাজা শহরে প্রবেশ করার পর গুলিবর্ষণ হয়। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের শহর খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহতে বেশ কয়েকটি লরিতে লুটপাট হয় এবং চালকরা মারধরের শিকার হন।

সংস্থাটি জানিয়েছে যত দ্রুত সম্ভব তারা গাজার উত্তরাঞ্চলে আবারো খাদ্য সরবরাহ করতে চায়। এক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে খাদ্য সরবরাহের জন্য একাধিক রুট ধরে গাজায় প্রবেশের সুযোগ প্রয়োজন, পাশাপাশি ইসরায়েল থেকে উত্তর গাজায় প্রবেশের ক্রসিং পয়েন্টগুলো খুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।