ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভী দাবি করেছেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে অন্তত ৫০ হাজার কর্মকর্তা গোপনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য— তেহরানের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা এবং একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা। খবর পলিটিকো।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভী বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। এক মাস আগে একটি সুরক্ষিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারের ভেতরকার যেসব কর্মকর্তা বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান, তারা নিবন্ধন করতে পারেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পেতে পারেন।

পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভী বলেন, ‘সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরো বাড়ছে। আমরা এখনো এই তথ্য যাচাই করছি। এটা বেশ সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। তবে যেসব প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তা অত্যন্ত শক্তিশালী ও আশাব্যঞ্জক।‘

তিনি আরো জানান, সাধারণ জনগণের জন্য একটি পৃথক ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে যে কেউ ইরানে গণআন্দোলনের অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবে।

শনিবার জার্মানির মিউনিখে পাহলভীর নেতৃত্বে এক বিশাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অন্তত ৫০০ বিরোধী ব্যক্তি অংশ নেবেন। যার মধ্যে অ্যাক্টিভিস্ট, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদও রয়েছেন। পাহলভীর ভাষায়, ‘বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশটির বাইরে এই প্রথম এত বৈচিত্র্যময় একটি বিরোধী শক্তির সম্মেলন হতে যাচ্ছে।‘

তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য হলো বিশ্বকে দেখানো যে আমরা একটি সুসংবদ্ধ, মতাদর্শগতভাবে মিলিত একটি জোট গঠন করছি। যার উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে ইরানকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, মানবাধিকারসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করা।‘

এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সবাই তিনটি মৌলিক নীতিতে একমত— ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, নাগরিক স্বাধীনতা ও সমানাধিকারের নিশ্চয়তা এবং ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ।

পাহলভী নিজেকে ইরানের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইলেও তার দীর্ঘকাল বিদেশে অবস্থান ও রাজপরিবারের উত্তরসূরি পরিচয়ের কারণে সমালোচকরা তাকে গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত। অনেক বিরোধী গ্রুপ মনে করে, তিনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তার শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সম্ভাবনায় জনগণের খুব একটা আস্থা নেই।

ইরান সম্প্রতি তুরস্কে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরু করেছে। তবে পাহলভী এই আলোচনাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘এই আলোচনার মাধ্যমে কেবল তেহরান সময়ক্ষেপণ করবে। তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা কৌশলগতভাবে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে।‘