ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৭ অক্টোবর অঞ্চলটিতে নতুন করে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দফায় দফায় আক্রান্ত হয়েছে এটি। সর্বশেষ গতকাল বিমান হামলা চালিয়ে হাসপাতালটির হৃদরোগ বিভাগ গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)। আক্রান্ত হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় পুরো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আল জাজিরাকে তিনি জানান, হাসপাতাল এলাকায় হাঁটাচলা করা ব্যক্তিদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের ওপরও বোমা হামলা চালানো হচ্ছে। এর আগে জ্বালানি সংকটে গত শনিবার বন্ধ হয়ে যায় গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম চিকিৎসা কেন্দ্র আল কুদস হাসপাতাল।
গাজার উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউসুফ আবু রিশ জানান, আল শিফা হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে দ্বিতল ভবনটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও বিপুলসংখ্যক রোগী আটকে আছে। মৃত্যু হয়েছে দুই নবজাতকের।
এর আগে গত শুক্রবার হাসপাতালটিতে আইডিএফের বিমান হামলায় নিহত হন অন্তত ১৩ জন। আল শিফা ছাড়াও গাজার অন্য হাসপাতালগুলোয়ও ক্রমাগত বিমান হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। আল শিফা হাসপাতালের একজন সার্জন আহমেদ মোখল্লালতি। তিনি জানান, হাসপাতালের পরিস্থিতি ক্রমেই আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। একের পর এক বিমান হামলার মধ্যে কেউই নিরাপদ বোধ করছে না।
দফায় দফায় বিমান হামলার পাশাপাশি আল শিফা, আল কুদস, আল রানতিসি ও ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের মতো গাজার সবক’টি বড় হাসপাতালের কাছে অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আল শিফা ও আল রানতিসি শিশু হাসপাতালকে চারদিক থেকে ট্যাংক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা।
গাজা কর্তৃপক্ষের মিডিয়া অফিস গতকাল জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া আগ্রাসনে অঞ্চলটিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে আট হাজারের বেশি নারী ও শিশু।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গাজা অফিসে গত শনিবার রাতে গোলাবর্ষণ করেছে আইডিএফ। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে সংস্থাটির প্রধান আচিম স্টেইনার এ তথ্য জানিয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য ইউএনডিপি অফিস কম্পাউন্ডে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিদের অনেকে এ হামলায় হতাহত হওয়ার কথা জানান তিনি। যেকোনো বিবেচনায় এ ধরনের হামলাকে ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বেসামরিক নাগরিক, অবকাঠামো ও জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন আচিম স্টেইনার।
চলমান যুদ্ধ শেষ হলে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, ‘আকাশ ও স্থলভাগ থেকে গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে আইডিএফ। হামাস অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। সেখানে লুকানোর কোনো নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই। হামাসের সব সদস্যকে হত্যা করা হবে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের আর কোনো বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না। যুদ্ধ শেষে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নেবে ইসরায়েলি সেনারা।’










