হিমবাহ ধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের দশম দিনের মাথায় গতকাল ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একইদিনে নুয়াকোট জেলার বিদুরে একটি চারতলা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় এক প্রৌঢ়াকে। কাদামাটির স্তূপে চাপা পড়া ওই বাড়িটির উপরের তলায় আটকা পড়েছিলেন তিনি।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলছে, এ দুর্যোগে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩ হাজার ১০১ জনকে জীবিত এবং অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। নিখোঁজ ৫৩১ জন। দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত গতকাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী-৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনই নেপালের নাগরিক। তাদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন।
নুয়াকোট থেকে উদ্ধার করা মহিলা যে এখনো বেঁচে থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তার পরিবারের স্বজনরা। তাকে মৃত ধরে নিয়ে তারা শেষকৃত্যও সেরে নিয়েছিলেন। যে ভবনটি থেকে প্রৌঢ়াকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেটির চতুর্থ তলের অর্ধেক পর্যন্ত কাদায় ডুবে গিয়েছিল। সেই চতুর্থ তলার ভাঙা জানালায় হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে প্রৌঢ়াকে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।
২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ হন শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী। তাদের মধ্যে শুক্র ও শনিবার চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।








