তাইওয়ান ইস্যুতে চীন-জাপানের চলমান বিরোধ বেড়েই চলেছে। টোকিওর বিরুদ্ধে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছে চীন। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ফু কং শুক্রবার সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন। খবর রয়টার্স।
চিঠিতে বলা হয়, তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ হলে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে—জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এমন ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে। জাপান যদি তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতিতে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে তা আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। চীন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে এবং তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাইওয়ান জাপানের ভূখণ্ড থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দূরে। যদি চীন তাইওয়ানে হামলা চালায়—তাহলে তা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ঘটনা টোকিওর পক্ষ থেকে সামরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।’
ফু দাবি করেন, জাপান যেন উসকানি ও সীমা অতিক্রম করা বন্ধ করে এবং তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। তাকাইচির বক্তব্য চীনের মূল স্বার্থের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।’
তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিং বরাবরই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিষয়টিকে অনতিক্রম্য এক সীমারেখা হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি। অবশ্য তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ শুধু এখানকার স্থানীয় জনগণই নির্ধারণ করবে।
বেইজিং এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০তম বার্ষিকী সামনে রেখে জাপানি সৈন্যদের যুদ্ধকালীন নৃশংসতার বিষয়টি সামনে আনছে এবং জাতিসংঘ গঠনে চীনের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।










