ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। ইসরায়েলি বাধার মুখে সেখানে ব্যাহত হচ্ছে সংস্থাটির কার্যক্রম। অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকলে তীব্র ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। খবর আল জাজিরা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের আইদা শরণার্থী শিবিরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করা শিশুদের একজনের বয়স ১০ বছর। আল জাজিরার প্রতিবেদককে স্বপ্নের কথা জানান আহমেদ দামাসেহ নামের এই বালক। সে জানিয়েছে বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হতে চায়।

আল জাজিরাকে ওই বালক জানায়, সে দামাসেহ পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম। প্রায় ৭৫ বছর আগে তার পরিবার জেরুজালেমের দেইর আবান থেকে পালিয়ে আসে নাকবায়। কারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সময় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি পালিয়ে আশ্রয় নেন ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে। সেসব পরিবারের মধ্যে আহমেদের পরিবারও এখানে পালিয়ে এসে সেখানে শরণার্থী হয়ে জীবনযাপন করছে।

পালিয়ে আসা এসব জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ শুরু করে ইউএনআরডব্লিউএ। ওই ভূখণ্ডে বসবাস করা শরণার্থীদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা জোগান দিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি। হাজার হাজার পরিবারের সঙ্গে দামাসেহ পরিবারের বাসস্থানের জন্য সেখানে তাঁবুর ব্যবস্থা করেছিল সংস্থাটি।

পশ্চিম তীরে অবস্থিত ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) শরণাথী বিভাগের উপ-প্রধান আনোয়ার হাম্মামের মতে, ওই অঞ্চলের প্রায় ৫ লাখ শিশুর শিক্ষার জন্য ৭০২টি বিদ্যালয় পরিচালনা করছে ইউএনআরডব্লিউএ। এছাড়া জাতিসংঘের ওই সংস্থা সেখানে প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

সংস্থাটির এসব মিশনের কেন্দ্রে রয়েছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করা। যেখানে ইসরায়েল তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি বাধার মুখে ব্যাহত হচ্ছে সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দাবি সেখানে ইসরায়েলি বাধায় তাদের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে আল জাজিরা জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউএনআরডব্লিউ’র কার্যক্রম বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলছে ইসরায়েল।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হলে চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য খাতে তীব্র সংকটের মুখে পড়বে সেখানকার কয়েক লাখ শরণার্থী।