ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেত্রী চলতি বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাকে পশ্চিমা সমর্থিত বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, মাচাদোকেই অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে বসানো হতে পারে। এমনটি হলে ওয়াশিংটন দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চাপ দেবে এবং ঘটনাটিকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরবে। তবে মাদুরো সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক বাহিনী কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া ক্ষমতা ছাড়বে কিনা তা স্পষ্ট নয়। সামরিক নেতৃত্ব এখনো সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি রাজনৈতিক সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণ সম্ভব না হয়, তবে দেশটি গৃহযুদ্ধ বা সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যত এখন নির্ভর করছে সামরিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সমীকরণ কোন পথে ভারসাম্য খুঁজে পায় তার ওপর।
সম্ভাব্য আরো দুটি দৃশ্যপট তৈরি হতে পারে। প্রথমত, সংবিধানের ২৩৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে যদি প্রেসিডেন্টের পূর্ণ অনুপস্থিতি ঘোষণা করা হয়, তাহলে নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নেবেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পূর্ণ ছয় বছরের কার্যকাল পূরণ করবেন।
এছাড়া সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বলেছেন, বিদেশী সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে ভেনিজুয়েলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তার ভাষায়, এই আগ্রাসন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবমাননা।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নে দেশটি এখন অনিশ্চয়তা, ক্ষমতার টানাপড়েন ও সম্ভাব্য পাল্টা সমীকরণের দ্বিধাবিভক্ত এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।










