সোমালিয়ায় নজিরবিহীন বন্যায় গত এক মাসে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বন্যা প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ চলতি বন্যাকে এক শতাব্দীর মধ্যে একবার হওয়া ঘটনা বলে বর্ণনা করেছে। খবর রয়টার্স। 

পূর্ব আফ্রিকার দেশ চলতি বছর খরার পর নজিরবিহীন বন্যার কবলে পড়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

অক্টোবরের প্রথমদিকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির জেরে দেশটি বন্যাকবলিত হয়। এ বন্যায় সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলোও ডুবে গেছে।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানায়, চলতি মৌসুমের ভারি বৃষ্টিপাতে সোমালিয়ায় প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটা জলবায়ু প্রভাবিত এল নিনো ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরু প্যাটার্নের কারণে আরো তীব্র হয়েছে।

সোমালিয়ায় চার দশক ধরে চলা ব্যাপক খরা ও জঙ্গিগোষ্ঠী আল শাবাবের হামলায় উদ্বাস্তু হওয়া লোকজনের আশ্রয়শিবিরগুলোও বন্যাকবলিত হয়েছে। ফলে তাদের দ্বিতীয়বারের মতো আশ্রয়স্থল ছেড়ে সরতে হয়েছে বলে ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

ওসিএইচএ জানায়, ব্যাপক মাত্রার বাস্তুচ্যুতি, আরো সম্পদ ধ্বংস ও মানুষের অভাব প্রকট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হবে প্রায় ৩৭ লাখ একর জমির সম্ভাব্য ফসলহানি।

জাতিসংঘের মানবিক ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক ও সহকারী উপমহাসচিব মার্টিন গ্রিফিথ বলেন, ‘‌চরম আবহাওয়া সোমালিয়ার দুর্বল সমাজগুলোকে আরো অভাবের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’