ইউক্রেনে ইউরোপীয় সৈন্যদের পরাজিত করা যাবে না—মাখোঁর এমন ধারণার প্রতিক্রিয়ায়ই পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সত্যিকারের পরমাণু যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জাতীয় বার্ষিক ভাষণে পুতিন বলেন, ‘ইউক্রেনে পশ্চিমা সৈন্যদল পাঠানোর সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এমনটা হলে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকারীদের পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে। একই সঙ্গে মস্কোর কাছে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মতো অস্ত্র রয়েছে বলেও সতর্ক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।’

তবে পশ্চিমা দেশের উদ্দেশে পুতিনের পরমাণু ঝুঁকির হুঁশিয়ারিকে কেউ কেউ খুব আমলে নিলেও অনেকেই এ হুঁশিয়ারিকে বরাবরের মতোই ‘ফাঁকা বুলি’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করা সাবেক জ্যেষ্ঠ রুশ কূটনীতিক  বরিস বোন্ডারেভ বিশ্বাস করেন, পশ্চিমের প্রতি পুতিনের হুমকি নতুন নয়। এটা মূলত তার নিজের অবাস্তব ইচ্ছার অভিক্ষেপ। পশ্চিমাদের ভয় দেখানোর জন্য এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা না দেয়ার জন্য মস্কো পারমাণবিক যুদ্ধের ভয় দেখিয়েছে, এমনটা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। 

১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে সোভিয়েত নেতারা নিয়মিতভাবে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা ঘোষণা করার সময় পুতিন বলেছিলেন, ‘এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়। কিন্তু তেমন কিছুই এখন পর্যন্ত ঘটেনি।’ রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার নিঃশেষিত সামরিক-শিল্প সম্ভাবনার কারণে পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়াবেন না। এছাড়া উভয় পক্ষের শক্তি অত্যন্ত অসম এবং পুতিনের পশ্চিমের সঙ্গে সংঘর্ষে ঝুঁকে পড়ার কোনো কারণ নেই। আল জাজিরা।