যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে পরস্পরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার জন্য চলমান প্রচেষ্টা আরো সংকটের মুখে পড়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা একটি ট্যাংকারকে থামাতে গতকাল হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী। পরে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তেহরানের পাল্টা হামলা প্রতিহত করেছে তারা এবং ইরানের কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থাপনায়ও আঘাত হেনেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কেশমে হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি অস্বীকার করেছে।

মূলত খালি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সৃষ্টি। বতসোয়ানার পতাকাবাহী এম/টি লেক্সি নামের জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে কুয়েতের কাছে হরমুজ প্রণালির উত্তরে অবস্থিত ইরানের খার্গ দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ক্রুরা ২৪ ঘণ্টা ধরে দেয়া সতর্কবার্তা বারবার উপেক্ষা করায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এর ইঞ্জিন অচল করে দেয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়, ‘শত্রুপক্ষের আকাশযান ভূপাতিত করার ফলে যে ধ্বংসাবশেষ বা অজ্ঞাত বস্তু পড়তে পারে, তার কাছে না যেতে এবং সেগুলো স্পর্শ না করতে।’ একই সময়ে বাহরাইনেও সাইরেন বেজে ওঠে।

সেন্টকম জানায়, কুয়েতকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হয় মাঝপথে ভেঙে পড়ে, নয়তো লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরো তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে।

পরে সেন্টকম আরো জানায়, কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, তবে সেগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

মার্কিন বাহিনী আরো দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া তিনটি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো বৈধভাবে আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

এছাড়া মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক এ হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে রাজনৈতিক অগ্রগতির অভাবকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। অথচ এর মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন।

গতকাল তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু দিক নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছে, যেগুলো নিয়ে তারা এক মাস আগেও আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের অবস্থানের স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করবে। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। একটি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর যেকোনো পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া নতুন সমঝোতা সত্ত্বেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গতকাল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। এ সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে শক্তিশালী করা।