নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের ওপর থেকে বিধিনিষেধগুলো সরিয়ে দিল প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান মেটা। গতকাল শুক্রবার (১২ জুলাই) সংস্থাটি ঘোষণা করে, আগামী সপ্তাহে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনের আগে সাবেক প্রেসিডেন্টের স্যোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে হামলার সঙ্গে জড়িত কর্মকাণ্ডের জন্য প্রথমবার প্লাটফর্মটিতে নিষিদ্ধ হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ২০২৩ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে ক্ষতিকারক পোস্ট এড়াতে তার অনলাইন আচরণ নিরীক্ষণের জন্য বিশেষ নিয়মের অধীনে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি এই বিশেষ নিয়মগুলো সরিয়ে নেয়ায় অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প।

রাজনৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মেটা জানায়, আমরা বিশ্বাস করি যে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীতদের কাছ থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য সমানভাবে শোনার অধিকার রাখে মার্কিন জনগণ। এ কারণেই রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর উচ্চতর স্থগিতাদেশের অধীন থাকবেন না।

তবে মেটা ব্লগপোস্টে জানিয়েছে, সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা অন্যান্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের মতো একই কমিউনিটি মানদণ্ডের অধীন থাকবেন। এর মধ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার উসকানি রোধ করার জন্য পরিকল্পিত নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে মেটার সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ফিরে আসার পর নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে প্রচারণা তথ্য, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে মতামত ও কিছু মিম শেয়ার করেছেন।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরে আসা নিয়ে সমালোচক এবং অনলাইন নিরাপত্তা আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাবর্তন ভুল তথ্যের বৃদ্ধি এবং সহিংসতার উস্কানি দিতে পারে, যেমনটি ক্যাপিটল দাঙ্গার সময় দেখা গিয়েছিল। এছাড়া জো বাইডেনের প্রচারাভিযান থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেটার সিদ্ধান্তের নিন্দা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মেটার বিধিনিষেধ তুলে দেয়া একটি লোভী ও বেপরোয়া সিদ্ধান্ত, যা মার্কিনদের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আক্রমণ।