মালদ্বীপের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার লাক্ষাদ্বীপে নতুন নৌঘাঁটি গড়তে যাচ্ছে ভারত। ভারত মহাসাগরে নিজেদের নজরদারি বাড়াতে মালদ্বীপ থেকে ৫০ মাইল দূরে লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জে নতুন ঘাঁটি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী। ৬ মার্চ এ ঘাঁটি স্থাপন করা হবে। স্থানীয় সময় শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। মালদ্বীপ থেকে সেনা সরানোর প্রাক্কালে এ নৌঘাঁটি স্থাপনের ঘোষণা দিল ভারত। খবর ভয়েস অব আমেরিকা।

গণমাধ্যমটি বলছে, ১০ মার্চের মধ্যে মালদ্বীপের তিনটি বিমান ঘাঁটির একটি থেকে ভারতীয় সেনারা সরে যাবেন। আগামী ১০ মের মধ্যে অন্য দুই বিমান ঘাঁটি থেকেও ভারতীয় সেনারা বিদায় নেয়ার কথা। এর মধ্যেই ৬ মার্চ মালদ্বীপ থেকে মাত্র ৫০ মাইল দূরে লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের নতুন নৌঘাঁটি দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরো বাড়াতে পারে।

নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মালদ্বীপের নিকটবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোয় তাদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন ঘাঁটি তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এ ঘাঁটি থেকে ভারত মহাসাগরে নজরদারি বাড়ানো হবে। মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সেনাদের দেশে পাঠানোর আগেই মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জে নতুন ঘাঁটি তৈরি করা হবে। ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমও পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ঘাঁটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা এ ঘাঁটি থেকে নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরেই নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত। প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিরোধের জেরেই মূলত সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছিল দেশটি। তবে সাম্প্রতিক কালে ভারত মহাসাগর ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে তৎপর নয়াদিল্লি। যার অন্যতম কারণ বেইজিং। কয়েক দশকে ভারতীয় মহাসাগরে নিজের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে চীন, যা ভারতের জন্য বড় চিন্তার কারণ।