ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ‘সম্পূর্ণ তদন্ত’ করতে হবে। গতকাল শনিবার (১১ নভেম্বর) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামী যৌথ শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি এ আহ্বান রাখা হয়। খবর আনাদোলু।

সৌদি আরব, জর্ডান, মিশর, কাতার, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরব-ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনের দেশগুলোর পক্ষে ‘অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ শুরু করার’ আহ্বান জানান। গাজার যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি অনুসারে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক শান্তি অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিতে চাপ তৈরির কথা বলেন তারা।

ব্যতিক্রমীভাবে আরব লীগ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) নেতা ও প্রতিনিধিরা জরুরি যৌথ সম্মেলনে অংশ নেন। গাজায় ইসরায়েলের হামলার ৩৬তম দিনে তারা একসঙ্গে বসেন।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও এই আগ্রাসনের সময় ঔপনিবেশিক দখলদার সরকারের যুদ্ধাপরাধ এবং বর্বর, নৃশংস ও অমানবিক গণহত্যা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নিন্দা জানানো হয় এক বিবৃতিতে।

নেতারা বলেন, যতক্ষণ না ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তা, শান্তি ও অধিকার ফিরে পাবে না ততক্ষণ ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে নিরাপত্তা ও শান্তি আসবে না।

প্রতিশোধমূলক যুদ্ধকে আত্মরক্ষা হিসাবে বর্ণনা করা বা যেকোনো অজুহাতে একে সমর্থন করা এবং অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিও জানান তারা।

ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রফতানি বন্ধ করার জন্য সব দেশের কাছে আহ্বান জানানো হয়। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, শান্তি উদ্যোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে দ্বৈতনীতির নিন্দা করেছে।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আহ্বান করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি শেষ করা হয়। সেখানে ফিলিস্তিনি ও ইউএনআরডব্লিউএ’কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর গাজা উপত্যকায় বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে বাসস্থানের পাশাপাশি স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতাল ও উপাসনালয় কিছুই লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে বাদ পড়েনি।

হামলা পর্যন্ত ১১ হাজার ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চার হাজার ৫০৬ শিশু ও তিন হাজার ২৭ জন নারী রয়েছেন। অন্যদিকে এর আগে আরও বেশি বলা হলেও ইসরায়েলি বিবৃতি অনুসারে, তাদের পক্ষে মৃত প্রায় এক হাজার ২০০।