যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের (আইসিই) গুলিতে আবারও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবারের এই ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাদের নিন্দা এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিনিয়াপলিসসহ নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো প্রধান শহরগুলো। খবর রয়টার্স।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এই ঘটনাকে ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটি নামক ওই ব্যক্তি হ্যান্ডগান নিয়ে এজেন্টদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টার সময় আত্মরক্ষার্থে এজেন্টরা গুলি চালাতে বাধ্য হন।

তবে রয়টার্স এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যম দ্বারা যাচাইকৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও চিত্রে ভিন্ন এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পেশায় আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটি কোনো অস্ত্র নয়, বরং হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং এজেন্টদের মারধরের শিকার অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন।

এক পর্যায়ে একজন এজেন্ট তাকে লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে করেন। প্রেটি নিজেকে রক্ষা করতে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিচু হয়ে গেলে একাধিক এজেন্ট তাকে ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে দেন।

ভিডিওর সবচেয়ে নৃশংস অংশে দেখা যায়, প্রেটি যখন মাটিতে অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিলেন, তখন একজন এজেন্ট খুব কাছ থেকে তার পিঠ লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আরো বেশ কিছু গুলির শব্দ শোনা যায়।

মিনিয়াপলিস পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও'হারা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেটি একজন বৈধ অস্ত্রধারী ছিলেন এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।

petti 2

অ্যালেক্স প্রেটি। ছবি- এপি

এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত মানুষ মিনিয়াপলিসের রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ফেডারেল এজেন্টদের এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। বিক্ষোভ দমাতে এজেন্টরা টিয়ার গ্যাস এবং ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরো সংঘাতময় হয়ে ওঠে।

মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গভর্নর ওয়ালজ বলেন, ‘আমি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ভিডিওগুলো দেখেছি এবং এটি অত্যন্ত জঘন্য। ফেডারেল সরকারের তদন্তের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই; অঙ্গরাজ্য সরকার নিজেই এর তদন্ত করবে।‘

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই বিক্ষোভের জন্য স্থানীয় নেতাদের দায়ী করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে, মেয়র এবং গভর্নর সাধারণ মানুষকে ‘বিদ্রোহে’ উস্কানি দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই এটি ফেডারেল এজেন্টদের হাতে দ্বিতীয় কোনো মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনা। গত ৭ জানুয়ারি রেনি গুড নামক এক নারী একইভাবে নিহত হওয়ার পর থেকেই শহরটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ফেডারেল এজেন্টদের এই কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চড়াও হওয়া এবং শিশুদের আটকের ঘটনায় ক্ষোভ এখন চরমে।