গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে সশস্ত্র ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও অস্ত্র স্থানান্তরের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস-এমএসএফ) হাসপাতালটির ‘নন-ক্রিটিক্যাল’ বা জরুরি নয় এমন চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে নিরাপত্তার চরম অবনতি হওয়ায় রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।

জেনেভাভিত্তিক এ দাতব্য সংস্থাটি জানায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে তাদের অনত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রমগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের কারণে তারা এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এমএসএফের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে হাসপাতালের ভেতরে মাস্ক পরা সশস্ত্র ব্যক্তিদের চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এমএসএফ কর্মীরা সেখানে বেশকিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মহড়া, রোগীদের ভীতি প্রদর্শন, নির্বিচার গ্রেফতার ও অস্ত্র সরানোর মতো সন্দেহজনক কার্যক্রম। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হাসপাতালগুলো অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং বেসামরিক এলাকা হিসেবে থাকতে হবে। এখানে কোনো ধরনের সামরিক উপস্থিতি বা কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটি চিকিৎসা সেবার সুষ্ঠু পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।

এদিকে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হাসপাতালের ভেতরে যেকোনো ধরনের সশস্ত্র উপস্থিতি বন্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ। তারা ধারণা করছে, গাজার নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের সশস্ত্র সদস্যরা সম্প্রতি হাসপাতালে প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, এ ধরনের নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএসএফের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জরুরি নয় এমন চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকলেও নাসের হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচার ও গুরুতর আহত রোগীদের সেবায় তারা এখনো সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রসূতি ও শিশু বিভাগের মতো সাধারণ সেবাগুলো বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে ইসরায়েল গাজায় কর্মরত ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে তাদের কর্মীদের তালিকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নিরাপত্তার গ্যারান্টি না পাওয়ায় এমএসএফ সে তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ইসরায়েল বারবার অভিযোগ করে আসছে, হামাস এ হাসপাতালগুলোকে সামরিক উদ্দেশ্যে এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার করছে। হামাস বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।