চার দিন ধরে কারীমা ইলরাস গাজার নাসের হাসপাতালের গণকবরে কোলাহল,
ধুলো ও দুর্গন্ধের মধ্যে ছেলের মরদেহ খুঁজছিলেন। গত ২৫ জানুয়ারি তার ২১ বছর বয়সী ছেলে
আহমেদ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে মারা যান। এর পর থেকে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল
না।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) ছেলের মরদেহ খুঁজে পান তিনি। খবর বিবিসি।
তিনি বলেন, আমার ছেলে আহমেদের মরদেহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি এখানে
সব সময়ই এসেছি। ছেলেটি ১২ বছর বয়সে বাবাকে হারায়। আমিই ওকে বড় করেছি।
কারীমার মতো গাজার অন্যান্য পরিবারও গণকবরের কাছ দিয়ে হাঁটছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ কবলিত এলাকাগুলোয় এটি খুবই সাধারণ দৃশ্য। বুলডোজারগুলো
মরদেহ তুলতে মাটির বুকে আঘাত করছে। মাটির নিচ থেকে শরীরের অংশ বের হয়ে আসছে। কবর খননকারীরা
আলাদা কবর খনন করছে, যেখানে উত্তোলিত মরদেহগুলো সমাহিত করা হবে। এরই মধ্যে পরিবারগুলো
আশা করছে যে মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের স্বজনকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নাসের হাসপাতাল প্রাঙ্গণ
থেকে ৩৩০ এর বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন অঞ্চলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের পরিচালক
অজিত সানঘাই বলেছেন, কবরগুলোর আন্তর্জাতিক ফরেনসিক তদন্ত হওয়া দরকার। মঙ্গলবার জাতিসংঘের
আরেকজন কর্মকর্তা জানান, কিছু মরদেহ হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে মরদেহ সমাহিতের অভিযোগ অস্বীকার
করা হয়েছে। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি
করে। আইডিএফ বলেছে, তারা মরদেহ উত্তোলন করে যাচাই করেছে যে সেখানে গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল
থেকে জিম্মি করে আনা কেউ আছে কিনা।










