ভারত ও জাপানকে জেনোফোবিক আখ্যা দিয়ে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে দেশ দুটি। বাইডেনের এ
মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক ও ভুল বলে পাল্টা জবাব দিয়েছে জাপান ও ভারত। খবর এপি ও ইকোনমিক
টাইমস।
এক বিবৃতিতে টোকিও জানিয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।
কারণ জাপানের নীতি যথাযথভাবে না জেনেই মন্তব্যটি করা হয়েছে। জাপান সরকার এরই মধ্যে
হোয়াইট হাউজে এ বার্তা পাঠিয়েছে ও নীতি-অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করেছে। এদিকে ভারতের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জো বাইডেনের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভারত সবসময়ই
ভিন্ন সমাজের লোকদের জন্য উন্মুক্ত এবং তাদের স্বাগত জানাতে সবসময় প্রস্তুত।’
অবশ্য ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে হোয়াইট হাউজকে
কিছু জানিয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানা যায়নি।
ইকোনমিক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে
জয়শঙ্কর ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে বাইডেনের করা অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক আনা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ভারতের স্বাগত
দৃষ্টির প্রতিফলন করে। তিনি বলেন, ‘ভারত একটি অনন্য দেশ, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছে। বিশ্বের ইতিহাসে ভারতীয় সমাজ এমন একটি সমাজ,
যা সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমাজের মানুষ ভারতে এসেছে।’
এর আগে শুক্রবার (২ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট
জো বাইডেন ভারত ও জাপানকে জেনোফোবিক বলে আখ্যা দেন, যার অর্থ বিদেশী বা অভিবাসীদের
প্রতি ভীতি বা নেতিবাচক মনোভাব। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানায়
বলে তাদের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। এদিকে চীন, জাপান, রাশিয়া ও ভারতের অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয় বলে দাবি করেন বাইডেন।
বাইডেন বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি কীভাবে
এগিয়ে চলেছে। কারণ আমরা অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানাই। চীনের অর্থনীতির হাল কেন এত খারাপ।
জাপানে এত সমস্যা কেন। কেন রাশিয়া ও ভারতের এ হাল? কারণ তারা সবাই জেনোফোবিক। তারা
অভিবাসীদের চায় না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে
অভিবাসন নীতি একটি বড় ইস্যু। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেখানে অভিবাসনবিরোধী
অবস্থান গ্রহণ করেছেন, সেখানে ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসনপন্থী। বাইডেনের সমালোচনামূলক এ
মন্তব্য এমন এক সময় এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা রাষ্ট্রীয়
সফরে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটকে ‘অলঙ্ঘনীয়’ বলে অভিহিত
করেছিলেন বাইডেন।
তাছাড়া মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ভারত বর্তমানে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বাইডেনের এমন বক্তব্য নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চাপা কূটনৈতিক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে বাইডেনের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ ভিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। প্রেস সেক্রেটারি ক্যাথরিন জিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির ইতিহাস নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন বাইডেন। নিজের মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কোনো দেশের অপরাধের কথা বলেননি। বাইডেন ভারত-জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।’










