ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় এবার ‘অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবস্থা’ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ব্যবস্থার মধ্যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। খবর আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় রোববার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে। আমাদের হাতে কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী পথ খোলা আছে। আমরা শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
সামরিক অভিযানের হুমকির পরপরই ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, একটি বৈঠক আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো ব্যবস্থা (সামরিক পদক্ষেপ) নিতে হতে পারে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরানের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য বৈঠকে বসবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থার তালিকায় রয়েছে—সামরিক হামলা, গোপন সাইবার যুদ্ধ, আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানবিরোধী গোষ্ঠীকে সরাসরি অনলাইন সহায়তা প্রদান।
ইরানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল করতে ইলোন মাস্কের সাহায্য নেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইলোন এই কাজে দক্ষ, তার স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট দিয়ে আমরা সাহায্য করতে পারি।
ট্রাম্পের এ হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা চালানো হলে অধিকৃত অঞ্চল (ইসরায়েল) সহ যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে রিয়ালের দরপতনের প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান চাইছে বিক্ষোভকারীরা।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিদেশের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। এদের মধ্যে শত শত সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন। গত ৭২ ঘণ্টা ধরে দেশটিতে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের কথা শুনতে প্রস্তুত, তবে ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসী উপাদান’দের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না। তিনি বর্তমান অস্থিরতার জন্য গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন।














