যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অভিযান চালিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। এ সময় অনেককে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে কলম্বিয়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি হল দখল করার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আরো কঠোর পথে হাঁটল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। খবর বিবিসি ও সিএনএন।
সিএনএনের
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক
ভবন হ্যামিল্টন হলের নিয়ন্ত্রণ নিলে বিক্ষোভকারীদের সরাতে ভবনে প্রবেশ করে পুলিশ। ২ ঘণ্টারও কম সময়ের অভিযানে হ্যামিল্টন
হল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় কেউ আহত
হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
রয়টার্স
বলছে, আন্দোলনের শুরু থেকেই কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা হল দখলের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলন শেষ না করলে অংশগ্রহণকারীদের
ছাত্রত্ব স্থগিতের হুমকি দিয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীরা সে হুমকি আমলে না নিয়ে আন্দোলন
চালিয়ে গেছে। সর্বশেষ তারা একটি হলও দখল করে নিয়েছে। পরে সে হল পুনরুদ্ধার করে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে
আনতে’ কলম্বিয়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ। ২ ঘণ্টারও কম সময়ের অভিযানে হ্যামিল্টন
হল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে জানিয়েছে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
একজন মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেছেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
স্বাভাবিক করতে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা হ্যামিল্টন হল দখল করে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। তাই আমাদের
কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
তবে
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি পক্ষ প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে
তারা বলছেন, একটি ক্যাম্পাসে সশস্ত্র পুলিশ প্রবেশ করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যদের
নিরাপত্তা ঝুঁকি ফেলেছে।
প্রসঙ্গত,
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইসরায়েলবিরোধী
বিক্ষোভে প্রকম্পিত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস। গত ১৭ এপ্রিল কলম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের সরাতে ক্যাম্পাসে নিউইয়র্ক পুলিশ প্রবেশ
করে ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে
গ্রেফতারের পর বিক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। গত এক সপ্তাহে পুলিশ
৫৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে।










