রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে আবারো শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর উপকূলীয় তিনটি জেলায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। রোববার সকালে প্রশান্ত মহাসাগরে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষুদ্র উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। খবর ডয়েচে ভেলে।
কামচাটকা সুনামি সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আলেউশিয়ান পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ ১৯ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে। উস্ত-কামচাটস্কিতে ১৫ সেন্টিমিটার ও পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহরে ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ পৌঁছাতে পারে।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঢেউয়ের উচ্চতা কম হলেও, সবাইকে উপকূল এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এই সতর্কতা দেশব্যাপী টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, কম্পনের মাত্রা ছিল ৭।
জার্মানির ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র বলছে, এটি ছিল ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা সংস্থাও একইভাবে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, হাওয়াই দ্বীপে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
এর আগে, গত ৩০ জুলাই রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয় ও কামচাটকার ক্রাশেনিনিকোভ আগ্নেয়গিরি প্রায় ৬০০ বছর পর জেগে উঠে রাতে অগ্নুৎপাত শুরু করে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কামচাটকা আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাত প্রতিক্রিয়া দলের প্রধান ওলগা গিরিনা বলেন, এই অগ্নুৎপাতের সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক থাকতে পারে। ওই ভূমিকম্পের পর ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া থেকে চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাতের পর কামচাটকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবাইকে নিরাপদে থাকার ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।










