মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কংগ্রেসে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হন সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক কিম্বারলি চিটলে। তিনি নিরাপত্তাজনিত যেকোনো ত্রুটির দায় নিতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে কিম্বারলি চিটলের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট দুই পক্ষই। খবর বিবিসি।
শুনানিতে ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, ‘চিটলের নেতৃত্ব নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতে চাই। একজন মানুষ কোথায় নিরাপদ? প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরাও অনিরাপদ।’
ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে জবাবে কিম্বারলি চিটলে বলেন, ‘আমরা এ আক্রমণ প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে ১৩ জুলাইয়ের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, আমি সে নিশ্চয়তা দিতে চাই।’
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কিম্বারলি চিটলে সিক্রেটপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। তার দায়িত্বের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত।
গত সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলার শিকার হন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার দায়ে আটক হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক। এর পর থেকেই ট্রাম্পবিরোধী ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি ও দেশটির নীতিনির্ধারকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
হামলার ঘটনায় তুমুল আলোচনায় রয়েছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সি। প্রচারণায় হামলার পূর্বাভাস থাকলেও কেন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা। এজেন্সির পরিচালককে অপসারণের দাবিও উঠেছে।
কংগ্রেসে কিম্বারলি চিটলের সাক্ষ্য বিষয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মিলানি স্ট্যান্সবারি বলেন, ‘তিনি যা বলছেন তা পুরোপুরি অসন্তোষজনক।’ অন্যদিকে রিপাবলিকান ন্যান্সি ম্যাক বলেন, ‘কিম্বারলি চিটলের আত্মপক্ষ সমর্থন সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’
এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরে দাঁড়ানোয় কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন দিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা, এমন গুঞ্জনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা আরো দ্বিগুণ হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তাও বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে সবসময় সতর্ক অবস্থানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কমলা হ্যারিসের নাম প্রস্তাব করার পর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী তহবিলে জমা হয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনের তুলনায় কমলা হ্যারিসকেই বেশি পছন্দ করছেন নাগরিকরা। অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘জো বাইডেনের চেয়ে কমলা হ্যারিসকে হারানো আরো বেশি সহজ।’










