অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলজুড়ে হাঙরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সিডনিসহ নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সৈকতে ৪টি হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সিডনির জনপ্রিয় নর্দান বিচেস সহ ডজনখানেক সৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।
মঙ্গলবার সকালে সিডনি থেকে ৪০০ কিলোমিটার উত্তরে পোর্ট ম্যাকোয়ারির কাছে সার্ফিং করার সময় এক ব্যক্তি হাঙরের কামড়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে আছেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির ম্যানলি বিচে এক তরুণ সার্ফারকে কামড়ে দেয় হাঙর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অন্য এক সার্ফার নিজের সার্ফবোর্ডের রশি ব্যবহার করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারায় তার প্রাণ বেঁচে যায়। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এছাড়া একই দিনে ১১ বছরের এক শিশুর সার্ফবোর্ড কামড়ে দেয় একটি হাঙর। তবে শিশুটি অক্ষত ছিল। এর মাত্র আগেরদিনই অন্য এক সৈকতে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়।
সার্ফ লাইফ সেভিং এনএসডাব্লিউ-এর প্রধান নির্বাহী স্টিভেন পিয়ার্স সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমানে সমুদ্রের পানির গুণমান খুবই খারাপ, যা হাঙরের উপস্থিতির জন্য সহায়ক। আমরা সবাইকে সমুদ্রের পরিবর্তে স্থানীয় সুইমিং পুল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।
বিশেষজ্ঞ ক্রিস পেপিন-নেফ জানান, ঘোলা পানিতে হাঙরের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ফলে তারা ভুলবশত কোনো কিছুর ওপর আক্রমণ করে বসে। এছাড়া বৃষ্টির ফলে নর্দমার ময়লা ও ছোট মাছ সমুদ্রের কিনারায় চলে আসায় তাদের পেছনে পেছনে বড় শিকারি হাঙরগুলোও তীরের কাছাকাছি চলে আসছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বছরে গড়ে ২০টি হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির সংখ্যা থাকে খুবই কম (গড়ে ৩টিরও নিচে)। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে প্রশাসন। উপকূলীয় এলাকায় ড্রোন টহল বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লাল পতাকা টাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।















